কিভাবে বাংলা আর্টিকেল লিখতে হয় ?

আপনি কি জানেন, বর্তমানে আর্টিকেল লিখার মাধ্যমে ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব! জি, আপনি ঠিকই শুনেছেন। আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে যেমন নিজের ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা সম্ভব তেমনি মার্কেটপ্লেসেও এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। 

আপনি যদি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে কিন্তু খুব সহজে আর্টিকেল লিখে ইনকাম করা সম্ভব। কিন্তু আর্টিকেল লেখার জন্য সহজ কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে, আর সেই দক্ষতা কিভাবে অর্জন করবেন আমার পোষ্টের মাধ্যমে তা জানতে পারবেন।

আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা যা যা জানতে পারবেনঃ


আরও পড়ুনঃ আমাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

Step No: 01- টাইটেল অথবা শিরোনাম লেখার নিয়ম

একটি আর্টিকেলকে Rank করানোর জন্য তার টাইটেল অথবা শিরোনাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন পাঠক আর্টিকেলটি পড়ার আগে সেই আর্টিকেলের টাইটেল দেখেই সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর্টিকেলটি পড়বে কিনা। আর আর্টিকেলটি ভালো হওয়ার পরেও শুধুমাত্র টাইটেল ভালো ও আকর্ষণীয় না হওয়ার কারণে ৯৯% পাঠক সেই আর্টিকেলটি না পড়েই চলে যায় । আর যদি টাইটেল ভালো ও আকর্ষণীয় হয় এবং আর্টিকেল যদি একটু খারাপও হয় তবুও পাঠক সেই আর্টিকেলটি পড়বে। 

সুতরাং, একটি আর্টিকেল লেখার পূর্বে সেই আর্টিকেলের টাইটেল অথবা শিরোনাম কিভাবে আকর্ষণীয় করা যায় সেটা জানতে হবে। 

নিচে একটি টাইটেলকে কিভাবে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করি তোলা যায় সেটি তুলে ধরা হলো ঃ

  1. টাইটেল অথবা শিরোনাম ৫ থেকে ৮ শব্দের মধ্যে লিখতে হবে।
  2. টাইটেলটি ৬০ ক্যারেক্টারের মধ্যে থাকতে হবে।
  3. টাইটেল এর শুরুতেই ফোকাস কি ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে । (ফোকাস কিওয়ার্ড কি ?)
  4. টাইটেল টি লোভনীয় করে লিখতে হবে। (যেমনঃ কার্যকরী, গোপনীয়, দশটি টিপস ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে হবে)
  5. টাইটেলে (?, !, \ বা | ) এগুলো ছাড়া কোন বিশেষ যতি চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।
মনে রাখবেন, আপনার আর্টিকেলের টাইটেল বা শিরোনাম যত আকর্ষণীয় ও সুন্দর হবে আপনার পোস্টটি তত বেশি Rank করবে। তাই ধৈর্য ধরে এবং হাতে সময় নিয়ে একটি আকর্ষণীয় সুন্দর টাইটেল লেখার চেষ্টা করবেন।

Step No: 02- ভূমিকা বাটন ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটের একটি আর্টিকেল ওপেন করেন তখন সেই আর্টিকেলের শুরুতেই দেখবেন একটি বাটন যুক্ত করা রয়েছে ( সব পোস্টে নাও থাকতে পারে), এটাকে বলা হয় ভূমিকা বাটন।

ভূমিকা বাটন পাঠক কে আপনার ওয়েবসাইটের অন্য একটি আর্টিকেল পড়তে আকৃষ্ট করে। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন ভূমিকা বাটনে আপনার সেই আর্টিকেলের কোন তথ্য অথবা টাইটেল লেখা থাকবে না যেটি পাঠক পড়তে এসছে বরং সেই পোস্টের সাথে সম্পর্কিত অন্য আরেকটি পোস্টের টাইটেল লেখা থাকবে। 

ভূমিকা বাটন কিভাবে ব্যবহার করবেন সেটি নিচে দেওয়া হলোঃ

  1. ভূমিকা বাটন আর্টিকেলের শুরুতেই বানাতে হবে।
  2. ভূমিকা বাটনেরর মধ্যে ৫ থেকে ৬ শব্দ ব্যবহার করা যাবে।
  3. ভূমিকা বাটনের মধ্যে অন্য রিলেটেড পোস্ট বা আর্টিকেলের এর ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। ( অবশ্যই সেই রিলেটেড পোস্ট বা আর্টিকেলের লিংক দিয়ে বাটনটি তৈরি করতে হবে )
  4. ভূমিকা বাটন অবশ্যই থিমের মেইন কালার দিয়ে বানাতে হবে।
  5. ভূমিকা বাটন এবং আরও পড়ুন সেকশনে একই আর্টিকেলের লিংক ব্যবহার করবেন না।
আপনারা যখন একটি আর্টিকেল লিখবেন তখন সেই আর্টিকেলের শুরুতেই একটি ভূমিকা বাটন যুক্ত করবেন। এক্ষেত্রে যখন একজন পাঠক আপনার সেই আর্টিকেলটি পড়তে আসবে তখন ভূমিকা বাটনের কিওয়ার্ডে আকৃষ্ট হয়ে সেই রিলেটেড পোস্টও পড়তে পারে। 


Step No: 03- ভূমিকা অথবা মেটা ডেসক্রিপশন লেখার নিয়ম

ভূমিকা অথবা মেটা ডেসক্রিপশন হলো এমন একটি সেকশন যেখানে, আপনার পুরো আর্টিকেলটি কি নিয়ে লেখা হয়েছে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া থাকে।

আপনি যখন একটি আর্টিকেল লিখবেন তখন সেই আর্টিকেলের শুরুতেই একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা অথবা মেটা ডেসক্রিপশন লেখা উচিত। এতে একজন পাঠক শুরুতেই বুঝতে পারেন, আপনার আর্টিকেলটি কি নিয়ে লেখা হয়েছে। এমন অনেক পাঠকই আছেন যারা শুধু ভূমিকা পড়ার পর আর্টিকেলটি আর পরে না। 

তাহলে কি আমাদের ভূমিকা লেখা উচিত নয় ? অবশ্যই লেখা উচিত তবে সঠিক ও সুন্দরভাবে। 

সঠিক ও সুন্দরভাবে ভূমিকা লেখার নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ

  1. ভূমিকা অথবা মেটা ডেসক্রিপশন মোট চার লাইন লিখতে হবে।
  2. ভূমিকা বাটনের নিচে ও প্রথম ফিচার ইমেজ এর উপরে দুই লাইন।
  3. প্রথম ফিচার ইমেজ এর নিচে, পেজ সূচিপত্রের উপরে দুই লাইন।

আপনারা যখন একটি আর্টিকেল লিখবেন তখন সেই আর্টিকেলের শুরুতেই একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা লিখবেন। এতে করে পাঠকের মনে আপনার আর্টিকেলটি পড়ার কৌতুহল তৈরি হয়। তবে মনে রাখবেন, একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা যেমন পাঠকের মনে আপনার আর্টিকেলটি পড়ার কৌতুহল তৈরি করতে পারে তেমনি একটি ভুল ও অনাকর্ষণীয় ভূমিকা, একজন পাঠককে আপনার পোস্টটি পড়া থেকে নীরুৎসাহিতও করতে পারে। সুতরাং, আপনারা অবশ্যই আর্টিকেলের শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা লিখবেন, তবে সেটি যেনো আকর্ষণীয় ও কৌতুহলী হয়। 

Step No: 04- পেজ সূচিপত্র বানানোর নিয়ম

পেজ সূচিপত্র আপনার পাঠককে তার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আপনার লেখা আর্টিকেলটিতে অনেকগুলো বিষয় থাকতে পারে। এমন অনেক পাঠক থাকতে পারে যাদের হয়তো আপনার আর্টিকেলের সবগুলো বিষয় না বরং কোন নির্দিষ্ট বিষয় প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পেজ সূচিপত্র পাঠকের প্রয়োজনীয় বিষয়টি খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করতে পারে। 

তবে এই সূচিপত্র বানানোর সময় অবশ্যই সেটি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যেন দর্শকের প্রয়োজনীয় বিষয়টি সেখানে ফুটে ওঠে। তা না হলে দর্শক তার প্রয়োজনীয় আর্টিকেল খুঁজে না পেয়ে আপনার ওয়েবসাইট ত্যাগ করে চলে যেতে পারে। 

পেজ সূচিপত্র বানানোর সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
  1. সূচিপত্রে অবশ্যই ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
  2. সূচিপত্রের নিচে প্রয়োজনীয় ১২ টি হেডিং ব্যবহার করতে হবে।
  3. প্রথম হেডিং অবশ্যই ফোকাস কিওয়ার্ড দিয়ে লিখতে হবে
যেহেতু পেজ সূচিপত্র আপনার পাঠককে তার প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট কোন তথ্য খুঁজতে সাহায্য করে তাই আপনারা অবশ্যই আর্টিকেল লেখার সময় সূচিপত্র তৈরি করবেন। এতে আপনার পাঠক অনেক উপকৃত হবে এবং আপনার ওয়েবসাইটের প্রতি তার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

Step No: 05- হেডিং লেখার নিয়ম

আপনার আর্টিকেলের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য লেখা হলে তার অবশ্যই একটি হেডিং দিতে হবে।
যেমন এখানে ( Step No: 05- হেডিং লেখার নিয়ম) এটি আমার এই আর্টিকেলের হেডিং। এরকমভাবে আপনাদেরও একটি হেডিং ব্যবহার করতে হবে। 
তবে এই হেডিং লেখা সময় আপনাদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে হেডিং লিখতে হবে। 

একটি আর্টিকেলের জন্য হেডিং লেখার সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
  1. প্রতিটি হেডিং পাঁচ থেকে আট শব্দের মধ্যে লিখার চেষ্টা করতে হবে।
  2. প্রতিটি হেডিং এর নিচে সর্বনিম্ন দুইটা প্যারা লিখতেই হবে।
  3. প্রতিটি হেডিং এর নিচে সর্বোচ্চ পাঁচটা প্যারা লেখা যাবে।

দেখুন আপনারা একটি আর্টিকেল কে সুন্দর করে তোলার জন্য যত কিছু করার দরকার তার সবই করার চেষ্টা করবেন। কারন একটি আর্টিকেলের মূল্য অনেক। আপনি কষ্ট করে একটি আর্টিকেল লিখবেন, আর সেটি যদি দেখতে প্রফেশনাল না হয় েতবে কিন্তু আপনারই ক্ষতি। সুতরাং, আপনার আর্টিকেলকে একটি প্রফেশনাল লুক দিতে যতভাবে মডিফাই করা দরকার তার সবই করবেন।

Step No: 06- আর্টিকেল প্যারা করে লেখার নিয়ম

আর্টিকেল  অবশ্যই প্যারা প্যারা করে লিখতে হবে। এতে আর্টিকেলটি দেখতে প্রফেশনাল এবং আকর্ষনীয় হবে। এটি যেমন আপনার আর্টিকেলটিকে সুন্দর করে তুলে তেমনি এটি আপনার দক্ষতাকেও ফুঁটিয়ে তুলে।
তবে এই প্যারা করে লিখার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। 

নিচে প্যারা করে লিখার কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলোঃ
  1. প্রতিটি প্যারায় সর্বনিম্ন সাড়ে তিন লাইন লিখা রাখতে হবে।
  2. প্রতিটি প্যারায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাইন লিখা যাবে।
  3. প্রতিটি লাইন যতটা পারা যায় ততটা সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।
উপরোক্ত নিয়ম মেনে আপনার আর্টিকেলটি প্যারা করে লিখার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার আর্টিকেলটি একটি প্রফেশনাল, সুন্দর এবং আকর্ষনীয় আর্টিকেল এ পরিনত হবে।

Step No: 07- আর্টিকেল ফরমেটিং করার নিয়ম

আপনার লেখা আর্টিকেলটি অবশ্যই ফরমেটিং করতে হবে। আর্টিকেলের মধ্যে অগোছালো ফন্ট ব্যবহার করবেন না। প্রয়ােজন ছাড়াই যেখানে সেখানে বোল্ড ব্যবহার করবেন না। এছাড়া অযথা কালার ব্যবহার, ইটালিক ডিজাইন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

নিচে আর্টিকেল ফরমেটিং করার কিছু নিয়ম তুলে ধরা হলোঃ
  1. আর্টিকেলটি ভালোভাবে ফরমেটিং করতে হবে। অগোছালো ফন্ট, অযথাই বোল্ড অথবা কালার পিকার থেকে কোনো কালার কোড ব্যবহার করা যাবে না।
  2. আর্টিকেলের সবগুলো লেখা জাস্টিফাই ফরমেটে থাকবে।
  3. বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আর্টিকেলের মথ্যে কোনো ইটালিক ডিজাইন ব্যবহার করা যাবে না।
  4. প্রতিটি আর্টিকেলের মধ্যে তিনটি “আরও পড়ুন” সেকশন ডিজাইন করতে হবে।
উপরোক্ত নিয়ম অনুসারে আর্টিকেল ফরমেটিং করলে আপনার লেখা আর্টিকেলটিও হয়ে উঠতে পারে সেরা আর্টিকেল গুলোর মধ্যে একটি। 

Step No: 08- শেষ কথা লেখার নিয়ম

দেখুন শেষ কথা বলতে সাধারনত আর্টিকেলের শেষে আপনার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করাকে বুঝায়। মনে করুন, আপনি একটি আর্টিকেল লিখেছেন। আর্টিকেলটি লেখা শেষে আপনি নিজে একজন পাঠক হিসেবে আর্টিকেলটি পড়ে কি কি ধারনা লাভ করেছেন সেটি প্রকাশ করাকে শেষ কথা বলা হয়। 

আপনার লেখা আর্টিকেলের শেষে অবশ্যই শেষ কথা লিখবেন। এত একজন পাঠক আর্টিকেল পড়া শেষে পুড়ো আর্টিকেল সম্পর্কিত একটি সক্ষিপ্ত ধারনা লাভ করবে। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইটের আর্টিকেল পড়ার প্রতি পাঠকের একধরনের তৈরি হবে।

কিভাবে সঠিকভাবে শেষ কথা লিখবেন, সেটি তুলে ধরা হলোঃ
  1. শেষ কথায় ফোকাস কিওয়ার্ড বসাতে হবে।
  2. শেষ কথার নিচে সর্বনিম্ন দুইটি প্যারা লিখতে হবে। 
  3. প্যথম প্যারায় পুলো কনটেন্ট সম্পর্কে বেলতে হবে এবং দ্বিতীয় প্যাারায় নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করতে হবে।

Step No: 09- ফিচার ইমেজ ব্যবহার করার নিয়ম

আপনার লেখা আর্টিকেলে অবশ্যই ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। তবে ফিচার ইমেজটি অবশ্যই আর্টিকেল  রিলেটেড হতে হবে। আপনার আর্টিকেলে যে বিষয় নিয়ে লিখা থাকবে, ফিচার ইমেজটি দিয়ে যদি সে বিষয় না বুঝায়, তাহলে পাঠক কিন্তু বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এই ফিচার ইমেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও  কিছু বিষয় অবশ্যই মাথাই রাখতে হবে।

নিচে ফিচার ইমেজ সঠিকভাবে ব্যবহারের নিয়ম তুলে ধরা হলোঃ
  1. প্রত্যেকটি আর্টিকেলের মধ্যে তিনটি ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। 
  2. প্রত্যেকটি ফিচার ইমেজ এআই ( AI ) দিয়ে তৈরি করতে হবে।
  3. মেটা ডেসক্রিমশন এর মধ্যে প্রথম ফিচার ইমেজ বসাতে হবে।
  4. চার নম্বর হেডিং এ দ্বিতীয় ফিচার ইমেজ বসাতে হবে।
  5. নয় নম্বর হেডিং এ তৃতীয় ফিচার ইমেজ বসাতে হবে।
আপনি আপনার আর্টিকেল এ যদি ফিচার ইমেজ ব্যবহার না করেন তবে আর্টিকেলটি প্রফেশনাল হবে না। ফিচার ইমেজ যেমন আপনার আর্টিকেলকে একটি সুন্দর ও প্রফেশনাল করে তুলে, তেমনি এটি একজন পাঠককে আপনার আর্টিকেলটি পড়তে আগ্রহী করে তুলে।

Step No: 10- ফিচার ইমেজ, ব্র্যান্ড লোগো, হেডার লোগো, ফেবিকন, সোশ্যাল শেয়ার ইমেজ, ব্যানার অ্যাড তৈরির নিয়ম

আপনার আর্টিকেল এ অবশ্যই ফিচার ইমেজ, ব্র্যান্ড লোগো, হেডার লোগো, ফেবিকন, সোশ্যাল শেয়ার ইমেজ ব্যবহার করবেন। এতে আপনার লিখা আর্টিকেলটি একটি প্রফেশনাল আর্টিকেল এ পরিনত হবে।
তবে ফিচার ইমেজ, ব্র্যান্ড লোগো, হেডার লোগো, ফেবিকন, সোশ্যাল শেয়ার ইমেজ ব্যবহারে আগে অবশ্যই এসবের সাইজ জানা জরুরি। কারন এসব ইমেজ বেশি বড় বা বেশি ছোটো হলে সেটি মানানসই হবে না। 

নিচে এসব ইমেজের সাইজ উল্লেখ করা হলোঃ                           
  1. ফিচার ইমেজ সাইজঃ W= 1100 px, H= 619 px.
  2. ব্র্যান্ড লোগো সাইজঃ W= 500 px, H= 500 px.
  3. হেডার লোগো সাইজঃ W= 283 px, H= 53 px.
  4. ফেবিকন সাইজঃ W= 200 px, H= 200 px.
  5. সোশ্যাল শেয়ার ইমেজ সাইজঃ W= 1000 px, H= 1000 px.
  6. ব্যানার অ্যাড সাইজঃ W= 1000 px, H= 90 px.
উপরোক্ত সাইজ অনুসারে ইমেজ গুলো তৈরি করে আপনার আর্টিকেল এর মধ্যে বসাবেন। 

Step NO: 11- আর্টিকেল লেখা ও পাবলিশ করার আদর্শ সময়

আপনি আপনার আর্টিকেলটি এমন একটি সময়ে লিখবেন, যখন আপনার মাইন্ড ফ্রেশ থাকবে। মাইন্ড ফ্রেশ থাকলে আর্টিকেল সম্পর্কিত অনেক তথ্য সহজেই ভাবতে পারবেন। অসময়ে আর্টিকেল লেখতে গেলে, সেটি আপনার জন্য একট কষ্টসাধ্য হয়ে যেতে পারে।
একইভাবে আর্টিকেল পাবলিশ করার ক্ষেত্রেও Time maintain করা অত্যন্ত জরুরি। আর্টিকেলটি এমন সময় পাবলিশ করতে হবে যখন মানুষজন অনলাইনে একটিভ থাকবে। 

নিচে আর্টিকেল লেখা ও পাবলিশ করার আদর্শ সময় দেওয়া হলোঃ
  1. আর্টিকেল লেখার আদর্শ সময়ঃ ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ মিনিট।
  2. আর্টিকেল পাবলিশ করার আদর্শ সময়ঃ 
  • সকাল ৯ টা থেকে ১০ টা।
  • দুপুর ৩ টা থেকে ৪ টা।
  • রাত ৯ টা থেকে ১০ টা। 
*প্রতিটি আর্টিকেল সর্বনিম্ন ১৫০০ শব্দে লিখতেই হবে। ( আপনার লেখা আর্টিকেল কত শব্দের হয়েছে সেটা জানতে এখানে ক্লিক করুন )

ফোকাস কিওয়ার্ড কি

ফোকাস কিওয়ার্ড হলো একটি নির্ধারিত শব্দ বা শব্দগুচ্ছ , যেটি আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে। 

ফোকাস কিওয়ার্ড এর মূল বিষয়ঃ
  • এটি একটি আর্টিকেলের মূল বিষয়বস্তুকে সংক্ষেপে তুলে ধরে।
  • আপনি যে শব্দ বা বাক্যের উপর আর্টিকেলটি লিখেছেন  এবং যে শব্দ বা বাক্যের জন্য আপনার আর্টিকেলটিকে সার্চ রেজাল্টে দেখাতে চান, সেটাই মূলত ফোকাস কিওয়ার্ড।

শেষ কথা

আপনি যদি সত্যি সত্যি আর্টিকেল লিখে ইনকাম করতে চান তাহলে সবার আগে আর্টিকেল কিভাবে লিখবেন, সেটা জানতে হবে। আর্টিকেল লিখা কোনো সহজ কাজ নয়। শুধু টাইপিং জানলে, ভালো গ্রামার জানলেই আর্টিকেল লিখা যায় না। এর জন্য সঠিক ধারনা এবং নিয়ম অনুসরন করতে হয়।

উপরের লিখাগুলো শুধু পড়লেই হবে না, সঠিকভাবে প্র্যাক্টিসও করতে হবে। ভালোভােবে প্র্যাক্টিস করলে আশা করা যায় আপনি খুব তাড়াতাড়ি একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হিসেবে হিসেবে নিজে প্রতিষ্ঠিত করতে পাড়বেন।

আর্টিকেল লিখে আয় করার সহজ উপায়

আপনি চাইলে আর্টিকেল লিখে অনেকভাবে ইনকাম করতে পারবেন। আপনি চাইলে কারও ওয়েবসাইটে ফুল টাইম বা পার্ট টাইম আর্টিকেল রাইটার  হিসেবে জব করতে পারেন। 

অথবা চাইলে আপনি নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে, সেই ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে ইনকাম জেনারেট করতে পারেন, তবে এইক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটটি নতুন। তবে কনসিসটেন্সি মেইনটেন্ট করে নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করতে পারলে খুবই তাড়াতাড়ি আপনার ওয়েবসাইটটি একটি ভালো পজিশনে পোঁছে যাবে এবং সেখান থেকে ভালো ইনকাম জেনারেট হবে।

এছাড়াও বিভিন্ন marketplace এ আর্টিকেল রাইটিং এর ভালো চাহিদা রয়েছে। আপনি চাইলে বিভিন্ন marketplace এ ( ফাইবার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি ) কাজ করেও ভালো পরিমান ইনকাম জেনারেট করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url