মাসে ২০ হাজার টাকা আয় কারার উপায়

বর্তমান সময়ে শুধু একটি চাকরির উপর নির্ভর করে জীবন চালানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে অতিরিক্ত আয়ের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিণী, বেকার যুবক কিংবা চাকুরিজীবী- সবার জন্যই মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা আয় করা একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যে পরিনত হয়েছে। 

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ঘরে বসেই বিশেষ কোনো দক্ষতা ছাড়াই অল্প পুজিঁ দিয়ে মাসে ২০ টাকা বা তার বেশি ইনকাম করা সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করবো, যেগুলো অনুসরন করলে মাসে ২০ হাজার বা তার বেশি টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

সূচিপত্র

পার্ট -টাইম চাকরি করে মাসে ২০ হাজার টাকা আয়

যাদের ফুল টাইম চাকরি বা পড়াশোনা রয়েছে, তাদের জন্য পার্ট-টাইম চাকরি একটি কার্যকর আয়ের উপায় হতে পারে। এক্ষেত্রে দিনে কয়েক ঘন্টা সময় বের করে কাজ করলেই অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানে পার্ট-টাইম কর্মী খুঁজছে, বিশেষ করে সার্ভিস, সেলস এবং অনলাইন সাপোর্ট সেক্টরে। সঠিক জায়গায় আবেদন করলে মাসে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ইনকাম করা সম্ভব। পার্ট- টাইম চাকরির মধ্যে রয়েছে কল সেন্টার, ডেলিভারি সার্ভিস, , শোরুম সহকারী, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক কিংবা অফিস অ্যাসিসটেন্ট ইত্যাদি।



এসব কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো উচ্চ ডিগ্রী লাগেনা, বরং সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্ববোধই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে কাজ শিখিয়ে দেওয়া হয়, ফলে নতুনদের জন্য সুযোগ আরও বেশি থাকে। বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক পার্ট-টাইম কাজের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বেড়েছে। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট, অনলাইন কাস্টমার সাপোর্ট, চ্যাট মডারেটর কিংবা ডাটা প্রসেসিং- এ ধরনের পার্ট-কাজ করে ঘরে বসেই করা যায়। 


ইন্টারনেট সংযোগ এবং সাধারন কম্পিউটার জ্ঞান থাকলেই এসব পার্ট-টাইম চাকরির সথে যুক্ত হওয়া যায়। যদি প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘন্টা নিয়মিত কজ করা যায়, তাহলে মাসের শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। সময় ব্যবস্থাপনা ভালো হলে পড়াশোনা বা মূল চাকরির পাশাপাশি এই আয় ভবিষ্যতে আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে। 

মোবাইল ব্যবহার করে মাসে ২০ হাজার টাকা আয়

বর্তমানে প্রায় সবার হাতেই একটি স্মার্ট ফোন রয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই এই স্মার্টফোনে সোসাল মিডিয়া স্ক্রল করে সময় নষ্ট করে। কিন্তু তারা জানে না যে, এই মোবাইল দিয়েই আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। শুধু ইন্টারনেট থাকলেইা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন কাজ করা যায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও গৃহিনীদের জন্য এটি একটি সহজ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ উপায়। সঠিক প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করতে পারলে মাসে ২০ হাজার বা তার বেশি টাকা আয় করা সম্ভব।



মোবাইল দিয়ে হালকা কাজ যেমন- , ডাটা এন্ট্রি, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, পোস্টিং বা চ্যাট সাপোর্ট ইত্যাদি পার্ট-টাইম কাজ করেও ইনকাম করা যায়। অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট আছে যেগুলো এসব কাজের সুযোগ দেয়। শুরুতে আয় কম হলেও অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে কাজের পরিমাণও বাড়ে। এছাড়া মোবাইল দিয়ে ফেসবুক রিলস, ইউটিউব শর্টস বা টিকটক ভিডিও তৈরি করেও আয় করা সম্ভব। শর্টস ভিডিও কনটেন্ট বর্তমানে খুব জনপ্রিয় এবং এতে দ্রুত ভিউস পাওয়া যায়। মনিটাইজেশন  চালু হলে বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড প্রোমোশনের মাধ্যমে নিয়মিত আয় শুরু করা যায়।

গ্রাম বা মফস্বলে বসে মাসে বিশ হাজার টাকা আয়

অনেকে মনে করেন ভালো আয় করতে হলে শহরে থাকতে হয়, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে গ্রাম বা মফস্বলে বসেও মাসে বিশ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। ইন্টারনেট সুবিধা এবং কিছু উদ্যোগ থাকলেই, গ্রাম থেকেই স্বাবলম্বী হওয়া যায়। গ্রামে অনেক ক্ষেত্রেই খরচ কম হওয়ায় সঞ্চয়ের সুযোগ আরও বেশি থাকে। গ্রামে বসে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং বা ডিজিটাল কাজ করে আয় করা যায়, ঠিক শহরের মতোই। এছাড়া কৃষিভিত্তিক ছোট ব্যবসা, যেমন- সবজি চাষ, মাছ চাষ বা হাঁস-মুরগি পালন করেও ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা থাকলেই এসব থেকে মাসিক আয় নির্দিষ্ট অংকে নিয়ে আসা যায়।


হস্তশিল্প ঘরোয়া খাবার বা লোকাল পণ্য অনলাইনে বিক্রি করাও একটি ভালো উদ্যোগ। গ্রামে উৎপাদন খরচ কম হয়, লাভের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি হয়। ফেসবুক পেজ বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে শহরের ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্য সহজে পৌঁছানো যায়। গ্রাম বা মফস্বলে বসে যদি অনলাইন ও অফলাইন দুই ধরনের কাজ একসাথে করা যায় তাহলে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় খুবই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ধীরে ধীরে এই আয় ভবিষ্যতে আরো বড় আকার নিতে পারে। শুধু ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

নারীদের জন্য মাসে বিশ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ

বর্তমানে নারীদের জন্য আয়ের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। গৃহিণী কিংবা শিক্ষার্থী নারীরাও এখন ঘরে বসেই আয় করতে পারছেন। পরিবার সামলানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নারীদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে মাসে বিশ হাজার টাকা আয় নারীদের জন্য সম্ভব। ঘরে বসে সেলাই, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ডমেড পণ্য বা কে তৈরি করে বিক্রি করা যেতে পারে। এসব পণ্যের চাহিদা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি। ফেসবুক পেজ বা পরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অর্ডার নেওয়া যায় এবং ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা সম্ভব।


অনলাইন টিউশন নারীদের জন্য আরেকটি নিরাপদ ও সম্মানজনক আয়ের পথ। বিশেষ করে শিশুদের পড়ানো বা নারীদের স্কিল শেখানোতে ভালো সুযোগ রয়েছে। এতে সামাজিক বাধাও তুলনামূলক কম। যদি নিয়মিত সময় দেওয়া যায়, তাহলে এসব কাজ থেকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা কোনো কঠিন বিষয় নয়। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি। সামান্য কিছুতেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যারা ধৈর্য ধরে এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে, তারা অবশ্যই সফল হবে।

অনলাইন ব্যবসা ও ই-কমার্স

অনলাইন ব্যবসা বর্তমানে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম বা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে মাসে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করা সম্ভব। এখানে বড় পুঁজি ছাড়াও ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করা যায়, যা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক। এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পণ্য নির্বাচন করতে হবে। যেমন- পোশাক, কসমেটিকস, ঘরোয়া পণ্য কিংবা হ্যান্ড মেড আইটেম। এরপর বিশ্বাসযোগ্য সাপ্লায়ার খুঁজে নিয়ে অল্প স্টক দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। অর্ডার পাওয়ার পর পণ্য সংগ্রহ করেও বিক্রি করা সম্ভব, যাকে ড্রপশিপিং বলা হয়। 


গ্রাহকের সাথে ভালো ব্যবহার এবং সময়মতো ডেলিভারির নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্রেতা বরাবর আপনার কাছে ফিরে আসবে, যা আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক। ধীরে ধীরে অর্ডারের সংখ্যা বাড়লে মাসে বিশ হাজার টাকা আয় খুব সহজেই সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও মার্কেটিং জানলে এই আয় ভবিষ্যতে আরো বড় ব্যবসায় রূপ নিতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সময় দিতে পারলে েএই ব্যবসা একদিন অনেক বড় ব্যবসায় পরিনত হবে

টিউশন ও স্কিল শেখানো

টিউশন করা বাংলাদেশের একটি পুরনো কিন্তু নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস। আপনি যদি কোন বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন, তাহলে শিক্ষার্থী পড়িয়ে মাসে বিশ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনলাইনে টিউশনি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে অনলাইন টিউশন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জুম, গুগল মিট কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষার্থী পড়ানো যায়। এতে যাতায়াতের ঝামেলা নেই এবং সময়ও বাচে। সপ্তাহে কয়েকদিন ক্লাস নিলেই ভালো পরিমান আয় করা সম্ভব।


শুধু একাডেমিক বিষয় নয়, বিভিন্ন স্কিল শিখিয়ে ও আয় করা যায়। যেমন কম্পিউটার বেসিক, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ইংরেজি ভাষা বা ডিজিটাল মার্কেটিং। এসব স্কিলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, ফলে শিক্ষার্থী পাওয়াও তুলনামূলক সহজ। একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় খুব বেশি কঠিন নয়। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়লে ফি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়, যা আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক

ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে বিশ হাজার টাকা আয়

ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন আয়ের মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী দেশী ও বিদেশী ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করতে পারেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কন্টেন্ট রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি কিংবা ভিডিও এডিটিং, এমন অসংখ্য কাজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে পাওয়া যায়। নতুন হলেও ধৈর্য ধরে কাজ করলে মাসে বিশ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট স্কিল বেছে নেওয়া জরুরী। একসাথে সব শিখতে গেলে সফল হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী একটি স্কিল নির্বাচন করে সেটিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।


এরপর আপনাকে ফাইভাড়,আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার বা পিপলপারআওয়ার মত মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। একটি ভালো প্রোফাইল ক্লাইন্ট এর কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে। প্রোফাইলে নিজের দক্ষতা, কাজের নমুনা এবং স্পষ্ট বিবরণ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে কম দামে কাজ করে ভালো রিভিউ সংগ্রহ করা একটি কার্যকর কৌশল। নিয়মিত কাজ করতে পারলে এবং ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাজের পরিমাণ বাড়তে থাকে, তখন মাসে বিশ হাজার টাকা আয় শুধু সম্ভব নয় বরং তা ছাড়িয়ে যাওয়া ও সহজ হয়ে যায়।

অনলাইন কনটেন্ট তৈরি করে আয়

বর্তমানে অনলাইন কনটেন্ট তৈরি একটি লাভজনক আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক কিংবা ব্লগ সব জায়গাতেই ভালো কনটেন্টের চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি কথা বলতে পারেন, শেখাতে পারেন বা কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হন তাহলে কন্টেন্ট তৈরি করে মাসে বিশ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে বিজ্ঞাপন, ও অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করা যায়। শুরুতে আয় কম হলেও নিয়মিত ভালো ভিডিও আপলোড করলে ধীরে ধীরে চ্যানেল বড় হয়।


লেখালেখিতে আগ্রহ থাকলে ব্লগিং হতে পারে একটি ভালো মাধ্যম। একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ব্লগ খুলে নিয়মিত মানসম্মত আর্টিকেল লিখলে গুগল এডসেন্স ও এফিলিয়েট লিংক এর মাধ্যমে আয় করা যায়। যদিও ব্লগিংয়ের ফল পেতে সময় লাগে, তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আয়ের মাধ্যম।ফেসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমেও কনটেন্ট তৈরি করে আয় করা সম্ভব। বড় পেজ হলে ব্র্যান্ড প্রমোশন, পোস্ট বুস্টিং কিংবা ডিজিটাল সার্ভিস বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। নিয়মিত ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে মাসে বিশ হাজার এর বেশি টাকা আয় সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে মাসে ২০ হাজার টাকা আয়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অন্যের পণ্য বা সেবার প্রচার করে কমিশনের মাধ্যমে আয় করার একটা আধুনিক পদ্ধতি। এখানে আপনাকে কোন পণ্য তৈরি করতে হবেনা, শুধু সঠিকভাবে পণ্যটি মানুষের কাছে তুলে ধরতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশেও অ্যামাজন, দারাজ, আলী এক্সপ্রেস সহ বিভিন্ন প্লাটফর্ম অ্যাফিলিয়েট সুবিধা দিচ্ছে। নিয়মিত কাজ করলে মাসে বিশ হাজার টাকা আয়, এর মাধ্যমে সম্ভব।মার্কেটিং শুরু করতে হলে প্রথমে একটি প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করতে হয়। সেটা হতে পারে একটি ব্লগ ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ফেসবুক পেজ।


আস্তে আস্তে পেজ বা ওয়েবসাইট বড় হলে অর্থাৎ পেজ বা ওয়েবসােইটে ভালো ভিজিটর আসতে শুরু করলে সেখানে পন্যের লিংক শেয়ার করতে হয়। যখন কেউ আপনার শেয়ার করা লিংকের মাধ্যমে পণ্য কিনবে, তখন আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। শুরুতে বিক্রি কম হলেও ধীরে ধীরে ভিউ এবং ট্রাস্ট বাড়ার সাথে সাথে আয়ও বাড়তে থাকে। অনেকেই প্রথম কয়েক মাস আয় না পেলেও পরে ভালো ফলাফল পান। এক্ষত্রে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট তৈরি, সঠিক পণ্য নির্বাচন এবং দর্শকদের চাহিদা বোঝায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সফলতার মূল চাবিকাঠি।

ছোট ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হয়ে মাসে বিশ হাজার টাকা আয়

ছোট ব্যবসা এখনো বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস। বড় পুঁজি ছাড়াও পরিকল্পিতভাবে সামান্য পুঁজি দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করলে ছোট ব্যবসা থেকে নিয়মিত আয় করা যায়। অনেকেই চাকরির পাশাপাশি ছোট ব্যবসা চালিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি আয় করছেন। এখানে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়ার স্বাধীনতা। ছোট ব্যবসার মধ্যে রয়েছে চা-নাস্তার দোকান, ফাস্টফুড কার্ট, মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশ পয়েন্ট, স্টেশনারি দোকান কিংবা ফলের ব্যবসা। এসব ব্যবসা সঠিক লোকেশনে হলে খুব দ্রুত ক্রেতা পাওয়া যায়।


প্রতিদিন অল্প অল্প লাভ হলেও মাস শেষে সেটি ভালো অংকে দাঁড়াবে। বর্তমানে অনেকেই হোম মেড ব্যবসার দিকে ঝুকছেন। ঘরে বসে রান্না করা খাবার, পিঠা, মিষ্টি বা বেকারি আইটেম বিক্রি করে ভালো আয় করা যায়। পরিচিত মহল ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অর্ডার সংগ্রহ করা সম্ভব। ধৈর্য, সততা এবং নিয়মিত উপস্থিতি ছোট ব্যবসার সাফল্যের মূল ভিত্তি। একবার ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে। আমরা যদি একটু মেধা খাটিয়ে চলি তাহলে ছোট ব্যবসা থেকেও ভালো আয় করা সম্ভব।                                                      

শেষ কথা

এই পুরো পোষ্টে আমরা মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার বিভিন্ন বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। অনলাইন ও অফলাইন দুই ধরনের আয়ের পথ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, কন্টেন্ট তৈরি, ছোট ব্যবসা, টিউশন,অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সহ নানা বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধাপে ধাপে কিভাবে শুরু করা যায়, সেটি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ আয়ের উপায়গুলো বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুনদের জন্য যেমন সুযোগ আছে তেমনি অভিজ্ঞদের জন্যও এগুলো অনেক কার্যকর।


আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী- মাসে ২০ হাজার টাকা আয় করার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো মানসিক প্রস্তুতি। শুধু উপরের পোস্টটি পড়লেই হবে না, সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে নামতে হবে। শুরুতে কষ্ট হবে, সময় লাগবে কিন্তু ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে ফল অবশ্যই আসবেই। আজ যারা সফল তারাও একদিন শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। তাই এখন নিজের অবস্থান, সময় ও সক্ষমতা অনুযায়ী একটি পথ বেছে নেওয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। নিয়মিত শেখা এবং চেষ্টা চালিয়ে গেলে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়। সফলতা শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমীকেই খুঁজে নেয়।










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url