ট্রেডিং কি এবং কিভাবে করব ?
আপনি কি ট্রেডিং শিখতে চাচ্ছেন ? কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন কিছুই বুঝতে পারেছেন না ? নাকি আপনি ট্রেডিং শুরু করবেন ভাবছেন, কিন্তু সত্যি সত্যি শুরু করতে গেলেই, হঠাৎ মনের মধ্যে একটা অজানা ভয় কাজ করছে ? হয়তো আপনি এখন ভাবছেন যে, ট্রেডিং করাটাই কি আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল হবে ?
আপনিও যদি এসব সমস্যায় পরে থাকেন এবং ট্রেডিং শুরু করতে ভয় পান তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। এই একটি মাত্র আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ার মাধ্যমেই আপনি আপনার সব সমস্যা দূর করতে সক্ষম হবেন।
এই পোস্টটি পড়ে আপনারা যা জানতে পারবেনঃ
- ট্রেডিং কি
- ট্রেডিং এর প্রকারভেদ
- বাইনান্স ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ফরেক্স ট্রেডিং এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ক্রিপ্টো ট্রেডিং এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- বাইনারি ট্রেডিং এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- স্টক ট্রেডিং এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ব্রোকার কি এবং এর মাধ্যমে কিভাবে ট্রেড করে
আরও পড়ুনঃ আমাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন
আগে জেনেনিন ট্রেডিং কি ?
ট্রেডিং করতে হলে আগে আপনাকে ট্রেডিং সম্পর্কে জানতে হবে। ট্রেডিং মানে হলো
শেয়ার, বন্ড, কারেন্সি, কমোডিটি, ফিউচার্স, অপশনস- এর মতো মূল্যবান আর্থিক জিনিস
কেনাবেচা করা। সহজ কথায় বলতে গেল ট্রেডিং হলো মুনাফা অর্জনের উদ্দ্যেশ্যে আর্থিক
সম্পদ ( যেমনঃ শেয়ার, মুদ্রা ইত্যাদি ) কেনাবেচা করা।
এখানে কেনাবেচার মাধ্যমে দামের উঠানামা থেকে লাভ করার চেষ্টা করা হয়। এটি সাধারন
বাজারের মতো না বরং এটি মূলত সল্প সময়ের জন্য কেনাবেচার একটি প্রক্রিয়া, যা স্টক
মার্কেট, ফরেক্স বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো বিভিন্ন বাজারে হতে পারে।
ট্রেডিং এর প্রকারভেদঃ
ট্রেডিং অনেক ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে অনেকগুলো জনপ্রিয় ও বিশ্বাসী। আবার অনেক
ট্রেডিং অ্যাপস বা ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে টাকা ইনভেস্ট করলে, কোনো লাভ তো
হয়ই না, বরং আপনার মনে ট্রেডিং সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারনা তৈরি করে। তাই দেখে
শুনে ভালো ও বিশ্বস্ত ব্রোকারের আন্ডারে আপনাকে ট্রেড করতে হবে।
এখন আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে আর সেটা হলো যে, ভাই ব্রোকার আবার কি ? এই নাম
তো প্রথমবার শুনলাম। কোনো ব্যাপার না, আমি আপনাকে সংক্ষেপে একটা ধারনা দিচ্ছি,
যার বিস্তরিত আপনারা একটু পরেই জানতে একটু পড়েই জানতে পারবেন। ব্রোকার হলো সেই
মাধ্যম যার আন্ডারে বিভিন্ন ধরনের ট্রেড ( যেমনঃ বাইনান্স, ক্রিপ্টো, ফরেক্স
ইত্যাদি ) করা যায়।
ট্রেডিং বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তার মধ্যে জনপ্রিয় কিছু ট্রেডিং সেক্টরের নাম
নিচে দেওয়া হলোঃ
- বাইনান্স ট্রেডিং
- ফরেক্স ট্রেডিং
- ক্রিপ্টো ট্রেডিং
- বাইনারি ট্রেডিং
- স্টক ট্রেডিং
বাইনান্স ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
বাইনান্স ট্রেডিং কিঃ
বাইনান্স ট্রেডিং বলতে বাইনান্স নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে ডিজিটাল
মুদ্রা কেনাবেচাকে বোঝায়। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ও জনপ্রিয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ
হিসেবে পরিচিত। এখানে বিটকয়েন, ইথেরিয়ামসহ বহু ধরনের ক্রিপ্টেকারেন্সি লেনদেন করা
হয়। এখানে ব্যবহারকারীরা মুলত বাজারদরের উঠানামা দেখ লাভ করার চেষ্টা করে। মূলত
এটি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা।
বাইনান্স ট্রেডিং কেন জনপ্রিয়ঃ
বাইনান্স ট্রেডিং বেশ জনপ্রিয়, কারন অনেক ধরনের কয়েন একসাথে পাওয়া যায়। এই
প্ল্যাটফর্মটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও আধুনিক প্রযুক্তিতে
তৈরি। এখানে ব্যবহারকারীরা বাজারের তথ্য ও চার্হজেই দেখতে পারে । এখানে
কম খরচে লেনদেন করা সুযোগ থাকায় অনেকে আগ্রহী হয়। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ এটি
ব্যবহার করে বলে এর গ্রহণ যোগ্যতা বেশি।
বাইনান্স ট্রেডিং কিভাবে কাজ করেঃ
বাইনান্স ট্রেনিং মূলত ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে
হয়। যখন কেউ একটি ক্রিপ্টো কিনতে চায়, তখন অন্য কেউ সেটি বিক্রি
করে। এই কেনাবেচা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে মিলিয়ে দেওয়া
হয়। এখানে মূলত দাম নির্ধারিত হয় চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি
করে। সব লেনদেন অনলাইনে রেকর্ড হয়ে থাকে।
বাইনান্স ট্রেডিং করার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবেঃ
- এখানে বাজারের দাম খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে, এটি ক্রিপ্টো ট্রেডিং এর বৈশিষ্ট্য।
- লাভের পাশাপাশি ক্ষতির ঝুঁকিও সবসময় থাকে।
- ট্রেডিংকে জুয়ার মত না দেখে, শেখার বিষয় হিসেবে দেখা ভালো।
- সবশেষে বলা যায় বাইনান্স ট্রেডিং জেনে, বুঝে ও সর্তকতার সাথে করা উচিত।
ফরেক্স ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
ফরেক্স ট্রেডিং কিঃ
ফরেস্ট ট্রেডিং বলতে এক দেশের মুদ্রার সাথে অন্য দেশের মুদ্রা কেরা ও বিক্রির
প্রক্রিয়াকে বুঝায়। মূলত এটি বৈদেশিক মুদ্রা বাজার নামে পরিচিত যাকে
ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বলা হয়। এই বাজারে
ডলার, ইউরো, পাউন্ড, ইয়েন সহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা লেনদেন
হয়। ফরেক্স মার্কেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক বাজার হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিদিন ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমান লেনদেন হয়ে থাকে। ব্যাংক, বড় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ সবাই এই বাজারে অংশ নিতে
পারে। ফরেক্স ট্রেডিং সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ও বৈশ্বিকভাবে পরিচালিত
হয়। ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো মুদ্রার দামের উঠানামা থেকে লাভ
করা।
ফরেক্স ট্রেডিং এর মৌলিক ধারনাঃ
ফরেক্সে সব সময় মুদ্রা জোড়া আকারে ট্রেড করা হয়। যেমন, ইউরো ও ডলার
একসাথে একটি কারেন্সি প্লেয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় । একটি মুদ্রা শক্তিশালী
হলে অন্য মুদ্রাটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়। এই শক্তি ও দুর্বলতার পরিবর্তন
থেকেই দামের উঠানামা ঘটে। ট্রেডাররা বাজারের খবর ও অর্থনৈতিক তথ্য পর্যবেক্ষণ
করে। এখানে দেশের অর্থনীতি, সুদের হার ও রাজনৈতিক অবস্থাও দামে প্রভাব
ফেলে। এইসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই ফরেক্স
ট্রেডিং বোঝার জন্য মৌলিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরী।
ফরেক্স ট্রেডিং কিভাবে কাজ করেঃ
ফরেক্স ট্রেডিং সাধারণত একটি অনলাইন ট্রেডিং প্লাটফর্মের মধ্যে হয়। এই
প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে হলে একটি ব্রোকারের সহায়তা লাগে। ট্রেডার যখন মনে
করে, কোন মুদ্রার দাম বাড়বে, তখন সে সেটি কেনে। আর দাম কমবে মনে হলে
সেই মুদ্রা বিক্রি করে। এই কেনা ও বিক্রির পার্থক্য থেকেই লাভ বা ক্ষতি
নির্ধারিত হয়। সব লেনদেন কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন হয়।
ফরেক্স মার্কেট দিনে ২৪ ঘন্টায় খোলা থাকে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন
অঞ্চলের মানুষ এতে অংশ নিতে পারে।
ফরেক্স ট্রেডিং করার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবেঃ
ফরেক্স ট্রেডিং এ যেমন লাভের সুযোগ আছে, তেমনি এখানে ঝুঁকিও রয়েছে। এখানে
মুদ্রার দাম খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। এই দ্রুত পরিবর্তনের কারণে অল্প
সময়ে অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া ফরেক্স ট্রেনিং
শুরু করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে আবেগের উপর ভিত্তি করে কোনভাবেই ভুল
সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বাজার সম্পর্কে ধৈর্য ও সচেতনতা থাকা
জরুরি। বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
ফরেক্স ট্রেডিংকে সহজ আয়ের উপায় ভাবা ঠিক না। ফরেক্স ট্রেডিং করার ক্ষেত্রে শেখা
, বোঝা ও সতর্তার সাথে সামনে এগোনোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিপ্টো ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
ক্রিপ্টো ট্রেডিং কিঃ
ক্রিপ্টো ট্রেডিং বলতে ডিজিটাল মুদ্রা কেনা ও বিক্রির প্রক্রিয়াকে
বোঝায়। এই মুদ্রা গুলোকে বলা হয় ক্রিপ্টোকারেন্সি, যেমন- বিটকয়েন বা
ইথেরিয়াম। এগুলো সাধারণ টাকা নয়, বরং ইন্টারনেট ভিত্তিক ভার্চুয়াল
সম্পদ। ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্ল্যাকচেইন নামে একটি প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।
ব্ল্যাকচেইন তথ্যকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ ভাবে সংরক্ষণ করে। ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে দাম
খুব দ্রুত ওঠানামা করে। এই দামের পরিবর্তন থেকে লাভ বা ক্ষতি হয়। তাইি এটিকে
অর্থাৎ ক্রিপ্টো ট্রেডিংকে একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিং হিসেবে ধরা হয়।
ক্রিপ্টো ট্রেডিং কেন করা হয়ঃ
মূলত দ্রুত লাভের আশায় অনেকে ক্রিপ্টো ট্রেডিং করে থাকে। কিছু মানুষ
দীর্ঘমেয়াদে মূল্য বাড়বে ভেবে ক্রিপ্টো ধরে রাখে। আবার কেউ কেউ প্রযুক্তি
হিসেবে ক্রিপ্টোকে গুরুত্ব দেয়। ক্রিপ্টো বাজারে বাজার ২৪ ঘন্টায়
খোলা থাকে। এতে বিশ্বজুড়ে মানুষ একসাথে অনেক লেনদেন করতে পারে। এই
ট্রডিং সেক্টরের মাঝখানে কোন ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান থাকে না। আর
এই স্বাধীনতাটাকেই অনেকে আকর্ষণীয় মনে করে। তবে যতই স্বাধীনতা থাকুক না
কেন, ঝুকি দিকটাও সবসময় মাথায় রাখা উচিত।
ক্রিপ্টো ট্রেডিং কিভাবে কাজ করেঃ
ক্রিপ্টো ট্রেডিং মূলত চাহিদা ও যোগানের উপর নির্ভর করে। যখন বেশি মানুষ
কিনতে চায়, তখন দাম হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আর যখন বেশি মানুষ বিক্রি করে,
তখন দাম হঠাৎই কমে যায়। । এই লেনদেনগুলো অনলাইন প্লাটফর্মে সম্পন্ন
হয়। প্রতিটি লেনদেন ব্ল্যাকচেইনে রেকর্ড থাকে। এই রেকর্ড পরিবর্তন করা
প্রায় অসম্ভব। তাই ক্রিপ্টো ট্রেডিং এ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা তুলনামূলক বেশি
থাকে। তবুও বাজারের অস্থিরতা একটি বড় বিষয়।
ক্রিপ্টো ট্রেডিং এর ঝুঁকি ও সচেতনতাঃ
ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে যে শুধু লাভই হয় এমনটা নয়, এখানে লাভের পাশাপাশি ক্ষতিরও
সম্ভাবনা থাকে।এখানে দাম খুব অল্প সময়ে অনেক কমে যেতে পারে। আবার, ভুল
তথ্য বা গুজব বাজার কে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক দেশে ক্রিপ্টো ট্রেডিং
সংক্রান্ত আইন এখনো স্পষ্ট নয়। তাই আইনগত বিষয় জানা জরুরী।যে কোন
ট্রেডিং এর মত ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়েও আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতি
হতে পারে। শুধু শোনা কথার উপর ভিত্তি করে কোন কাজ করা উচিত নয়। সর্বাপরি,
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকা।
আরও পড়ুনঃ কিভাবে আর্টিকেল লিখে আয় করবেন
বাইনারি ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
বাইনারি ট্রেডিং কিঃ
বাইনারি ট্রেডিং হল একটি আর্থিক ট্রেডিং পদ্ধতি যেখানে লাভ বা ক্ষতির ফলাফল
আগে থেকে নির্ধারিত থাকে। একে বাইনারি বলা হয় কারণ এর ফলাফল সাধারণত দুই
রকম- লাভ অথবা ক্ষতি। এই ট্রেডিংয়ে মূলত বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের দামের
উঠানামার উপর অনুমান করা হয়। এটি শেয়ার, ফরেক্স বা
ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর নির্ভর করে হতে পারে। বাইনারি ট্রেডিং
সাধারণ ট্রেডিং এর মতো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নয়। এখানে নির্দিষ্ট
সময়ের মধ্যে দাম বাড়বে না কমবে, সেটাই মূল প্রশ্ন। সময়সীমা কয়েক
সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এই ট্রেডিং নতুনদের কাছে
সহজ মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এতে ঝুঁকি অনেক বেশি। সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা
ছাড়া এটি আপনার আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বাইনারি ট্রেডিং এর মূল বিষয়ঃ
বাইনারি টেডিং এ ট্রেডার একটি নির্দিষ্ট সম্পদ নির্বাচন করে। এরপর সে অনুমান
করে নির্দিষ্ট সময় শেষে দাম বাড়বে নাকি দাম কমবে। এই অনুমানকে সাধারণত
”কল” অথবা ”পুট” বলা হয়। ”কল” মানে দাম বাড়বে বলে, আশা করা যায়। আর ”পুট”
মানে দাম কমবে বলে আশা করা যায়। শুরু করার সময়ই লাভের পরিমাণ নির্ধারিত
থাকে। যদি অনুমান সঠিক হয় তাহলে কাক্ষিত লাভ পাওয়া যায়। তবে ভুল হলে
বিনিয়োগ করা অর্থের বড় অংশ হারাতে হতে পারে। এখানে আংশিক লাভ বা ক্ষতির
কোন সুযোগ নেই। এখানে ফলাফল পুরোপুরি নির্ভর করে পূর্বানুমানের উপর।
বাইনারি ট্রেডিং কিভাবে কাজ করেঃ
প্রথমে একজন ট্রেডার একটি অনলাইন ট্রেনিং প্ল্যাটফর্মে
অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর সে অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা
দেয়। প্লাটফর্ম থেকে একটি নির্দিষ্ট মার্কেট নির্বাচন করে। তারপর
ট্রেডের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ট্রেডার তখন সিদ্ধান্ত নেয় দাম বাড়বে নাকি
দাম কমবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রেড ওপেন করে। সময় শেষ হলে সিস্টেম
স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল দেখায়। অনুমান সঠিক হলে লাভ অ্যাকাউন্টে যোগ হয়।
ভুল হলে বিনিয়গকৃত অর্থ কেঁটে নেওয়া হয়। সবকিছু স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে
সম্পন্ন হয়।
বাইনারি ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি ও সতর্কতাঃ
বায়নারি ট্রেডিং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি। এখানে দ্রুত
অর্থ লাভের সম্ভাবনার পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতির আশঙ্কা ও থাকে। অনেক দেশেই এটি
আংশিক বা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এটি, জুয়া খেলার মত আচরণ
করে, যদিও ট্রেডিং কোন জুয়া নয়। বাজার বিশ্লেষণ ছাড়া ট্রেড করলে
অনেক বড় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অনেক ভুয়া ব্রোকার এই ট্রেডিংকে ব্যবহার
করে প্রতারণা করে। নতুন ট্রেডাররা সহজেই এতে প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে। অন্যান্য
ট্রেডিং এর মতো এইখানেও আবেগের বসে ট্রেড করলে বড় ক্ষতি হতে
পারে। সুতরাং, সঠিক শিক্ষা অভিজ্ঞতা ছাড়া এতে জড়ানো মোটেও উচিত
নয়। এখানে ট্রেড করার সময় সবসময় ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই
জরুরী।
স্টক ট্রেডিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে
স্টক ট্রেডিং কিঃ
স্টক ট্রেডিং হলো শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনা ও
বিক্রির প্রক্রিয়া। একটি কোম্পানি যখন ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধন সংগ্রহ
করতে চায়, তখন তারা শেয়ার ইস্যু করে। এই শেয়ারগুলো কিনে সাধারণ মানুষ সেই
কোম্পানির আংশিক মালিক হয়ে যায়। শেয়ারের দাম কোম্পানির পারফরমেন্স ও
বাজারের চাহিদার উপর নির্ভর করেই উঠানামা করে। স্টক ট্রেডিং এর মূল উদ্দেশ্য
হলো কম দামে শেয়ার কিনে বেশি দামে বিক্রি করা। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারী লাভ
অর্জনের চেষ্টা করে। শেয়ার বাজার একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক
বাজার। এখানে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন
থাকে। স্টক ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি উভয় ভাবেই করা যায়, যেটি
এই ট্রেডিং এর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং এটি আধুনিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার একটি
গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্টক ট্রেডিং কিভাবে শুরু হয়ঃ
স্টক ট্রেডিং শুরু করতে প্রথমে একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খুলতে
হয়। শেয়ারগুলো ইলেকট্রনিক আকারের সংরক্ষিত থাকে। এর পাশাপাশি একটি
ট্রেনিং অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয়। এই একাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার কেনা ও
বিক্রির অর্ডার দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীকে একটি নির্দিষ্ট ব্রোকার নির্বাচন
করতে হয়। ব্রকার শেয়ার বাজারের সাথে বিনিয়োগকারীর সংযোগ স্থাপন
করে। বর্তমানে অনলাইন প্লাটফর্মের মধ্যে ট্রেডিং খুব সহজ হয়ে
গিয়েছে। মোবাইল অ্যাপ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে লেনদেন করা যায়। শুরু
করার আগে বাজার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা জরুরী। এতে ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো
যায়।
স্টক ট্রেডিং এ শেয়ারের দাম কিভাবে পরিবর্তন হয়ঃ
স্টক ট্রেডিং এ শেয়ারের দাম মূলত চাহিদা ও যোগানের উপর নির্ভর
করে। যখন কোন শেয়ারের চাহিদা বেশি থাকে, তখন তার দাম বাড়ে। আবার
যখন চাহিদা কমে, তখন দাম হ্রাস পায়। আবার কোম্পানির লাভ, ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ
পরিকল্পনা দামকে প্রভাবিত করে। অর্থনৈতিক অবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও
শেয়ার বাজারে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদ ও গুজব অনেক সময়
দামের দ্রুত পরিবর্তন ঘটায়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তও বাজার কে
প্রভাবিত করতে পারে। সুদের হার বাড়লে বা দাম কমলে শেয়ারের দাম বদলাতে
পারে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও দামের পূর্বাভাস দিতে ব্যবহৃত হয়। এইসব
কারণ মিলেই শেয়ারের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে।
স্টক ট্রেডিং এর সুবিধা ও ঝুঁকিঃ
স্টক ট্রেডিং এর অন্যতম বড় সুবিধা হল উচ্চ লাভের
সম্ভাবনা। দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার ভালো রিটার্ন দিতে পারে। ডিভিডেন্টের মাধ্যমে
অতিরিক্ত আয়ও পাওয়া যায়। এটি একটি কার্যকর বিনিয়োগ মাধ্যম। তবে
স্টক ট্রেডিং ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। বাজারের উঠানামায় মূলধন হারানোর
সম্ভাবনা থাকে। আবার, ভুল সিদ্ধান্তে অনেক বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে
পারে। অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ছারা এই ট্রেডিং করা বিপজ্জনক হতে পারে। ঝুঁকি কমাতে
বৈচিত্রময় বিনিয়োগ করা উচিত। এক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য থাকলে ট্রেডিং
লাভজনক হতে পারে।
ব্রোকার কি এবং এর মাধ্যমে কিভাবে ট্রেড করে
ব্রোকার কিঃ
ব্রোকার হলো এমন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যারা বিনিয়োগকারী ও বাজারের মধ্যে
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। শেয়ার বাজার, ফরেক্স, কমোডিটি বা
ক্রিপ্টো মার্কেটে সরাসরি সাধারণ মানুষের ট্রেড করার সুযোগ থাকে না। এই
কাজটি করতে হলে ব্রোকারের সহায়তা লাগে। ব্রোকার বিনিয়োগকারির অর্ডার
গ্রহণ করে তা সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জে পাঠিয়ে দেয়। তারা ট্রেডিং
প্লাটফর্ম, মার্কেটে ডাটা ও রিপোর্ট সরবরাহ করে। ব্রোকার সাধারণত তাদের
সেবার জন্য কমিশন বা ফি নিয়ে থাকে। অনলাইন অফলাইন দুই ধরনের প্রকারে
বর্তমানে প্রচলিত।
নিচে বাংলাদেশের কয়েকটি বৈধ ও জনপ্রিয় ব্রোকার তুলে ধরা হলোঃ
- UCB Stok Brokaerage - ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ
- LankaBangla Securities- লাঙ্কাবাংলা সিকিউনিটিজ
- BRAC EPL Stock Brokerage- ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ
- EBL Securities- ইবএল সিকিউরিটিজ
- Sheltech Brokerage- শেলটেক ব্রোকারেজ
- IDLC Securities- আইডিয়াল সিকিউরিটিজ
- City Brokerage- সিটি ব্রোকারেজ
- Shanta Securities- শান্টা সিকিউরিটিজ
- Bank Asia Securities- ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ
- ICB Securities- আইসিবি সিকিউরিটিজ
ব্রোকরের মাধ্যমে কিভাবে ট্রেড করা হয়ঃ
প্রথমে একজন বিনিয়োগকারীকে ব্রোকার নির্বাচন করতে হয়। এরপর
ব্রোকরের কাছে ট্রেডিং একাউন্ট খুলতে হয়। অ্যাকাউন্ট খোলার সময়
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয় ( যেমনঃ NID বা জন্মনিবন্ধন বা ড্রাইভিং
লাইস্যান্স ইত্যাদি। ব্রোকার প্রদত্ত ট্রেডিং প্লাটফর্মে লগইন করে শেয়ার
বা অন্যান্য সম্পদ কেনাবেচার অর্ডার দেওয়া হয়। ব্রোকর সেই অর্ডার বাজারে
কার্যকর করে। ট্রেড সম্পন্ন হলে লাভ বা ক্ষতি একাউন্টে যুক্ত হয়।
বিনিয়োগকারী চাইলে যেকোনো সময় টাকা উত্তোলন করতে পারে। এইভাবেই
ব্রোকরের মাধ্যমে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক ট্রেড করা হয়।
আপনি যদি উপরের স্টেপগুলো সঠিকভাবে ও মনযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন, তাহলে আশা করি
ট্রেডিং সম্পর্কে আপনার যত প্রশ্ন. যত ভুলবোঝাবুঝি ছিল, সেইসব দূর হয়েছে।
এরপরও কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের ওয়েবসাইটে মেসেজ করতে দ্বিধাবোধ করবেন
না, ধন্যবাদ।
আরও পড়ুনঃ আমাদের সঙ্গে যোগযোগ করুন



রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url