নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে অনেকই জানে না। প্রাচীনকাল থেকেই নিম পাতা বিভিন্ন রোগ নিরামক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিম পাতার কোনো বিকল্প নেই।
নিম-পাতা-দিয়ে-ফর্সা-হওয়ার-উপায়
বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হওয়া গেলেও, সেটি সাময়িক ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই যারা নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়ে ফর্সা হতে চান তাদের জন্য নিমপাতা অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হতে পারে।

সূচিপত্রঃ নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি আবার  অনেকের  জানা নেই। নিমপাতা একটি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটার ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম। নিমপাতা ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে খুবই উপকারী। তাজা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন। নিম পাতার পেস্ট মুখে লাগানোর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনি যদি সপ্তাহে দুই বার ব্যবহার করেন তাহলে আপনার  মুখের ময়লা, ব্রণ ও কালচে ভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং ত্বক স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

এছাড়াও নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে প্রতিদিন আপনি আপনার মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের লোমকূপের ময়লা দূর হবে এবং আপনার ত্বক সতেজ লাগবে। আপনি যদি নিম পাতার পেস্টের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করেন তাহলে ব্রণ ও কালো ভাব কমে যায়। আবার নিম পাতা দিয়ে ফেসওয়াসও বানিয়ে আপনার ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন। নিম পাতার রসের সাথে গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। নিয়মিত গোলাপজল ব্যবহার করলে মুখের কালচে ভাব অনেকটা কমে যায়।

নিম পাতার পেস্ট মুখে লাগানোর উপায়

নিম পাতা প্রাকৃতিক একটি উপাদান যা ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে খুবই উপকারী। তাজা নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করে আপনি আপনার মুখে লাগাতে পারেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিটে রেখে পানি দিয়ে সুন্দরভাবে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে দুইবার  নিম পাতার পেষ্ট ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার মুখের ময়লা, ব্রণ ও কালচে ভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।

এছাড়া নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে প্রতিদিন আপনি আপনার মুখ ধুতে পারেন। এতে করে আপনার ত্বক পরিষ্কার থাকবে। নিম পাতা দিয়ে ফুটানো পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে লোমকূপের ভেতরে থাকা ময়লা দূর হয় এবং মুখের সতেজ ভাব আসে। আপনি যদি নিয়মিত ধৈর্য ধরে ব্যবহার করেন তাহলে আপনার  ত্বকের রং ধীরে ধীরে পরিষ্কার ও ফর্সা হতে শুরু করবে। নিম পাতা নিয়মিত ব্যবহারের পাশাপাশি পরিষ্কার পানি পান করা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া  জরুরী। কারণ শরীরের ভেতর থেকে পরিষ্কার না হলে ত্বক সুন্দর হয় না। 

নিম পাতা ও হলুদের ব্যবহার

নিম পাতা ও হলুদের ব্যবহার ত্বক পরিষ্কার ও ফর্সা করার জন্য খুবই কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। তা জানে নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে বেটে নিয়ে তারপর একসাথে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আপনি আপনার মুখে লাগাতে পারেন। এই পেস্ট আপনার মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে আপনার ত্বক আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বকের ভেতরে থাকা ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও জীবাণু দূর হয়ে আপনার ত্বককে আরো ফর্সা ও পরিষ্কার করে তুলবে।

কাঁচা হলুদের থাকা অ্যান্টিসেপটিক গুন ব্রণ ও দাগ কমাতে সাহায্য করে, আর নিম পাতা ত্বকের ভেতরে থেকে পরিষ্কার করে। এই দুটি একসাথে ব্যবহার করলে আপনার মুখের কালচে  ভাব ধীরে ধীরে হালকা হয়ে  আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল দেখাবে। আপনি যদি ভালো ফলাফল পেতে চান তাহলে সপ্তাহে দুইবার নিয়মিত নিম পাতা ও হলুদ একসাথে ব্যবহার করবেন। নিম পাতা ও হলুদ দুটোই প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এর ক্ষতির কোন আশঙ্কা থাকে না।

নিম পাতা দিয়ে ফেসওয়াশ বানানো

নিম পাতা দিয়ে ঘরে সহজে প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ বানানো যায়, যা ত্বক পরিষ্কার ও ফর্সা  রাখতে খুবই উপকারী। নিম পাতা দিয়ে ফেসওয়াশ বানানোর জন্য প্রথমে এক মুঠো তাজা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে নিবেন। এরপর দুই তিন কাপ পানিতে নিমপাতা দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। নিম পাতা ও পানি একসঙ্গে ফুটিয়ে পানির সবুজ রং হলে চুলা থেকে  নামিয়ে ঠান্ডা করে নিয়ে ভালোভাবে ছেঁকে নিন। এরপর সুন্দর করে সেই পানি একটি বোতলে রেখে দিন।
নিম-পাতা-দিয়ে-ফর্সা-হওয়ার-উপায়
এই নিম পাতার পানি দিয়ে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মুখ ধুলে ত্বকের ময়লা, ঘাম ও অতিরিক্ত তেল দূর হবে। এটি মুখের ব্রণ চুলকানি ও কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে, ময়লা পরিষ্কার হয় এবং মুখ ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও ফর্সা দেখাতে শুরু করে। পাশাপাশি এই ফেসওয়াশ ত্বকের কোন ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই প্রাকৃতিক যত্ন দেয়, ফলে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও সুন্দর থাকে।

নিম পাতা ও গোলাপজলের ব্যবহার

নিম পাতা ও গোলাপজল একসাথে ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য দারুন উপকার পাওয়া যায়। প্রথমে  নিম পাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে নিন এবং এর থেকে রস বের করুন। এরপর সেই নিম পাতার রসের সাথে সমপরিমাণ খাটি গোলাপ জল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে কটন বা আঙ্গুলের সাহায্যে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে আলতো ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

গোলাপজল ত্বক ঠান্ডা রাখে, রুক্ষতা কমায় এবং ত্বকের ভেতরে আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, নিম পাতা ত্বকের ময়লা, জীবাণু, অতিরিক্ত তেল দূর করে মুখ পরিষ্কার রাখে। নিম পাতা ও গোলাপজল দুটি একসাথে নিয়মিত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে মুখের কাল যে তা ভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং ত্বক নরম হবে এবং মুখে স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল ও ফর্সা ভাব আসে।

নিম পাতার ভাপ নেওয়ার উপকারিতা

নিম পাতার ভাব নেওয়া ত্বক পরিষ্কার ও ফর্সা করার আরেকটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়। প্রথমে একটি বড় পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন, তারপর সেখানে এক মুঠো তাজা নিমপাতা দিন। নিম পাতা দেওয়া পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে সেই পানির ভাব মুখে নিন। ভাব নেওয়ার সময় মাথার উপর একটি তোয়ালে দিয়ে ঢেকে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ভাপ নিলে রোমকূপ খুলে যায় এবং ত্বকের ভিতরে জমে থাকা ময়লা বের হয়ে আসে।

নিম পাতার ভাপ ত্বকের জীবাণু নষ্ট করতে সাহায্য করে এবং ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস কমায়। নিয়মিত সপ্তাহে এক থেকে দুইবার নিম পাতার ভাপ নিলে ত্বক পরিষ্কার থাকে  এবং মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে। নিম পাতা ভাপ মুখে নেওয়ার পর মুখ ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে এবং মুখ ধীরে ধীরে পরিষ্কার ও ফর্সা দেখাতে শুরু করবে।

নিম পাতা ও মধুর ব্যবহার

নিম পাতা ও মধুর ব্যবহার ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল করার জন্য একটি প্রাকৃতিক এবং কার্যকর উপায়। নিম পাতা ও মধুর ব্যবহারের জন্য প্রথমে আপনি এক মুঠো  তাজা নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিবেন। এরপর এতে এক চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে একটি মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করবেন। তারপর নিম পাতা ও মধুর মিশ্রণটি মুখে সমানভাবে লাগিয়ে বিশ মিনিট রেখে দিন। বিশ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।

মধু ত্বককে নরম ও আদ্র রাখে, আর নিমপাতা ত্বকের ময়লা, জীবাণু এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে। নিম পাতা ও মধু এই দুটি একসাথে ব্যবহার করলে ব্রণ, দাগ ও  কালচেভাব অনেক কমে যায় এবং মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। আপনি যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার নিয়মিত নিম পাতা ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ত্বক সতেজ পরিষ্কার এবং ফর্সা দেখাতে শুরু করবে। নিম পাতা ও মধুর ব্যবহার কোন কেমিক্যাল ছাড়াই প্রাকৃতিক যত্ন দেয়, তাই মধু ও নিমপাতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখে।

নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা

সকালবেলায় নিম পাতা খাওয়া শরীর ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আপনি যদি সকাল বেলা খালি পেটে দুই থেকে তিনটি তাজা  নিমপাতা চিবিয়ে খান তাহলে আপনার শরীরের ভিতরে ক্ষতিকারক টক্সিন বের হয়ে যাবে। নিম পাতা রক্তকে পরিষ্কার করে এবং দেহের ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া, আপনি যদি নিয়মিত নিম পাতা খেতে পারেন তাহলে আপনার হজম শক্তি আগে অনেক ভালো হবে লিভার সুস্থ থাকবে এবং পেটের সমস্যা যেমন আমাশায়, গ্যাস বা অম্বলতা অনেক কমে যাবে।

নিম পাতা খাওয়া শরীরের উপর ছাড়াও এটি ত্বকের উপরও অনেক প্রভাব ফেলে। নিম পাতা খেলে শরীরের রক্ত পরিষ্কার থাকায় মুখের কালচে ভাব কমে এবং ত্বক স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল দেখায়। নিম পাতা খাওয়ার জন্য মুখের ব্রণ, ফোসকা ও অল্প দাগ কমতে শুরু করে। এছাড়া নিম পাতা খাওয়ায় রক্তের চর্বি কমে এবং রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে, যা আপনার ত্বককে  দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যবান ও সুন্দর রাখে। আপনি যদি নিয়মিত ভাবে নিম পাতা খান তাহলে নিম পাতার এই প্রাকৃতিক উপকারিতা আরো কার্যকর ভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।

ব্রণ ও দাগ দূর করতে নিমপাতা

ব্রণ ও দাগ দূর করতে নিমপাতা ব্যবহার একটি প্রাকৃতিক এবং কার্যকর উপায়। ত্বকে ব্রণ ও ফোসকা হলে তা কালচে দাগের সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে অমসৃণ ও অবিকশিত দেখায়। নিয়মিত নিম পাতার পেস্ট ব্যবহার করলে ব্রণের জীবাণু মারা যায় এবং অতিরিক্ত তেল শুষিত হয়, যা আপনার মুখে নতুন ব্রণ হওয়া প্রতিরোধ করে। নিম পাতা ব্যবহারের জন্য প্রথমে আপনাকে তাজা নিমপাতা ধুয়ে বেটে পেস্ট তৈরি করতে হবে এবং যে স্থানে ব্রণ রয়েছে সে স্থানে পাতলা করে লাগিয়ে রাখতে হবে। এই পেস্ট ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়।
নিম-পাতা-দিয়ে-ফর্সা-হওয়ার-উপায়
নিমের এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের পুশকে পুনরুজ্জীবিত  করে এবং ব্রণ ও দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ত্বকের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে ত্বক পরিষ্কার হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, ফর্সা করার জন্য এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকারী উপায় যেটি কেমিক্যাল ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে আপনার ত্বককে সুস্থ রাখবে।

নিম পাতা ব্যবহার করার সময় সতর্কতা

নিম পাতা প্রাকৃতিক উপাদান হলেও ব্যবহারের সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনার ত্বকে কোন সমস্যা না হয় এবং প্রাকৃতিক ফলাফল ভালো পাওয়া যায়। প্রথমে সংবেদনশীল বা এলার্জি প্রবণ ত্বকে সরাসরি নিমপাতা বা নিম পেস্ট ব্যবহার না করে খোলা যে কোন অংশে এটি ব্যবহার করুন। বাইরে যে কোন একটি অংশে মিশ্রণটি লাগিয়ে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করুন। নিমপাতা লাগানো স্থানে যদি লালচে ভাব বা চুলকানি,ফোসকা দেখা দেয় তবে তা ব্যবহার করা উচিত নয়।

নিম পাতা প্রাকৃতিক উপাদান হলেও খুব শক্তিশালী হয় এই কারণে অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক শুষ্ক বা রুক্ষ হতে পারে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহারই যথেষ্ট। নিম পাতা ব্যবহারের সময় চোখের কাছে লাগানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ তা চোখের জালা বা আঘাত করতে পারে। এছাড়া যদি ত্বকে কোন ক্ষত বা চুলকানি থাকে তা সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার আগে ব্যবহার করা উচিত নয়। হঠাৎ বা অতিমাত্রায় নিম পাতার ব্যবহার করলে কখনো কখনো ত্বকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।  তবে নিম পাতা প্রাকৃতিক হলেও ব্যবহারের সময় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহারে ভালো ফল

নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও ফর্সা হয়ে যায়, কিন্তু এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ব্যবহার।। নিমপাতা একবার বা দুবার ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক ফল আশা করা ঠিক নয়। নিম পাতায় একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ধীরে ধীরে আপনার ত্বকের উপর কাজ করে, তাই ধৈর্য ধরে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বক ধীরে ধীরে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হতে শুরু করবে। নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ত্বকের পরিষ্কার থাকে, অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর হয় এবং গ্রহণ বা লালচে তার কমে।

নিম পাতার  নিয়মিত ব্যবহার শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয়কে উপকার করে। শরীরের ভেতর থেকে রক্ত পরিষ্কার করে এবং ত্বক দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান রাখে। নিম পাতা নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক শুধু ফর্সা নয়, নরম, মসৃণ ও প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল হয়। এছাড়া ধৈর্য ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নেওয়ার ফলে ত্বকে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় না, যা কেমিক্যাল ভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করার সময় দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র একবারের চেষ্টায় হতাশ না হয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সত্যিই সুন্দর ও ফর্সা দেখাতে শুরু করে।

শেষ কথাঃ নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সত্যিই এটি একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকর পদ্ধতি। নিম পাতা একটি প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় এটি ত্বককে কোন ক্ষতিকর কেমিক্যাল ছাড়াই পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তবে এটি একবার ব্যবহার করে তৎক্ষণাৎ ফল আশা করা ঠিক নয়। নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হতে গেলে অবশ্যই এটি নিয়মিত ধৈর্য ধরে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল দেখাতে শুরু করে।

নিম পাতা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো, যারা ত্বকের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান চান, তাদের জন্য নিমপাতা ব্যবহার খুবই উপকারী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটি শুধু ত্বক ফর্সা রাখেনা, বরং ত্বককে নরম, সতেজ ও স্বাস্থ্যবান রাখতেও সাহায্য করে। ত্বকে ব্যবহারের জন্য কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের বিকল্প হিসেবে এটি একটি নিরাপদ এবং সহজ পদ্ধতি, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সত্যিই সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url