রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে তা জেনে রাখা জরুরি। রেবিস একটি মারাত্মক ভাইরাস জনিত রোগ, যা একবার শরীরে প্রকাশ পেলে প্রায় নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ হয়। তাই এই রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র কার্যকর উপায় হল সময় মত ও সঠিকভাবে রেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।
আজকে এই আর্টিকেলে আমি রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কতদিন থাকে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছি। রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে। রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমার এই পোস্টটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়ে নিবেন।
সূচিপত্রঃ রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
- রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
- রেবিস ভ্যাকসিন কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
- রেবিস ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে
- রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বলতে কি বোঝায়
- কামড়ের পর নেওয়া রেবিস ভ্যাকসিন কত দিন কার্যকর থাকে
- রেবিস ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ কেন দরকার
- শিশুদের ক্ষেত্রে রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা
- বয়স ও শারীরিক অবস্থা
- রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে গেলে কি লক্ষণ দেখা যায়
- রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে ভুল ধারণা
- রেবিস ভ্যাকসিন না নিলে কি ঝুঁকি থাকে
- শেষ কথাঃ রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে এটা আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরী। রেবিস
ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সাধারণত ভ্যাকসিনের ধরন, সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়া হয়েছে
কিনা, এবং ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। কোন প্রাণীর
কামড়ের উপর সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী রেবিস ভ্যাকসিনের
পূর্ণ কোর্স শেষ করলে শরীরে পর্যাপ্ত এন্টিবডি তৈরি হয় যা রেবিস
ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্ত সুরক্ষা দেয়। রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সাধারণত ১
থেকে ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে এবং এই সময়ের মধ্যে মানুষের শরীর রেবিস ভাইরাস
কে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
তবে সময়ের সাথে সাথে শরীরের অ্যান্টিবডির মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে,
বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের শরীরে
অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক কমে যেতে পারে। এই কারণে ভবিষ্যতে আবার কোন প্রাণীর
কামড় হলে আগে ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বুস্টার
ডোজ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নির্দিষ্ট সময়
পর্যন্ত থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কখনো অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনঃ
অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট
রেবিস ভ্যাকসিন কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
রেবিস ভ্যাকসিন হলো এমন একটি প্রতিষেধক টিকা, যা মানুষের শরীরকে জলাতঙ্ক
নামক মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এই ভাইরাস সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বাদুড় সহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা
আঁচলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। একবার জলাতঙ্ক এই রোগের
ভাইরাস মানুষের মস্তিষ্কে পৌছে গেলে এই রোগ প্রায় নিশ্চিত ভাবে মৃত্যুর কারণ
হয়।
রেবিস রোগের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো এ রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর এর কোন
কার্যকর চিকিৎসা নেই। এই কারণে রেবিস ভ্যাকসিনকে জীবন রক্ষাকারী টিকা বলা হয়ে
থাকে। কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে সময় মত এই টিকা নেয়া হলে শরীর নিজেই
ভাইরাসকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে শুধুমাত্র সময়মতো
টিকা না নেওয়ার কারণে অনেক লোক মারা যায়। তাই রেবিস ভ্যাকসিন এর
কার্যকারিতা কতদিন থাকে কখন আবার নেওয়া দরকার এই বিষয়গুলো আমাদের সাধারণ
মানুষদের সকলেরই জানা দরকার।
রেবিস ভ্যাকসিন কিভাবে কাজ করে
মানুষের শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। মানুষের
শরীরকে নিরাপদ ভাবে ভাইরাস একটি দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় অংশের সাথে পরিচয় করিয়ে
দেয়, যাতে মানুষের শরীর ভবিষ্যতে আসল ভাইরাস চিনে ফেলতে পারে। রেবিস
ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, কে ধ্বংস করতে সক্ষম।
হিসেবে কাজ করে এবং ভাইরাসকে স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছাতে বাঁধা দেয়।
ভ্যাকসিন দেওয়ার পরপরই এই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। ভ্যাকসিন
দেওয়ার পর সাধারণত কয়েকদিন সময় লাগে শরীরের পূর্ণ প্রতিক্রিয়া গড়ে উঠতে।
এজন্যই কুকুর, বিড়াল বা শেয়াল কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন নিতে হবে।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, কুকুর, বিড়াল, শেয়াল কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন
নেওয়া জরুরী। যত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন নেওয়া হবে এর কার্যক্ষমতা
তত বেশি হবে এবং রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা বলতে কি বোঝায়
রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বলতে টিকা নেওয়ার পর মানুষের শরীর কতটা
শক্তভাবে এবং কতদিন পর্যন্ত রেবিস বা জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিজেকে
সুরক্ষিত রাখতে পারে সেটাকে বোঝায়।রেবিস ভ্যাকসিন শরীরে এমন এক প্রতিরোধ ব্যবস্থা
তৈরি করে, যা রেবিস ভাইরাস শরীরে ঢুকলেও তাকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। ভ্যাকসিন
নেওয়ার পর এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যতদিন সক্রিয় থাকে, ততদিন ভ্যাকসিনকে কার্যকর
বলা হয়। তবে মানুষের রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে তা অবশ্যই জেনে
নেওয়া উচিত, যেটি নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ব্যক্তির ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারো শরীরে রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে ভ্যাকসিনে প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, আবার
যাদের শরীরে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল তাদের ক্ষেত্রেই কার্যকারিতা তুলনামূলক কম
সময় স্থায়ী থাকতে পারে। এছাড়া ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নির্ভর করে ডোজ
ঠিকমতো নেওয়া হয়েছে কিনা তার উপর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সম্পূর্ণ কোর্স শেষ
না করলে শরীর পর্যাপ্ত এন্টিবডি তৈরি করতে পারেনা। তাই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা
বলতে সঠিক সময়, সঠিক ডোজে টিকা নেওয়ার মাধ্যমে শরীরে যে সুরক্ষা তৈরি হয়
সেটি কতটা শক্তিশালী ও কতদিন স্থায়ী থাকে।
কামড়ের পর নেওয়া রেবিস ভ্যাকসিন কত দিন কার্যকর থাকে
মানুষের রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে তা নিয়ে অনেকই চিন্তিত। কোনো
মানুষ কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য সন্দেহ জনক প্রাণীর কামড়ে শিকার হওয়ার পর যখন
রেবিস ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ কোর্স গ্রহণ করে তখন এই ভ্যাকসিন সাধারণত দীর্ঘ সময়
পর্যন্ত শরীরকে রেবিস ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। চিকিৎসা গবেষণা ও অভিজ্ঞতা
অনুযায়ী, রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে তিন বছর
পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। রেবিস ভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর এই সময়ের মধ্যে
শরীরের এমন পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে ভাইরাসের আক্রমণ হলেও তা
প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
রেবিস ভাইরাসের কার্যকারিতা তখনই সম্পূর্ণভাবে বজায় থাকে, যখন রোগী ভ্যাকসিনের
একটি ডোজও বাদ না দিয়ে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করে। কামড়ের পর সাধারনত ০,৩,
৭,১৪ এবং২৮ দিনে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় এবং প্রতিটা ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ভ্যাকসিনের কোন ডোজ দেরিতে
নেওয়া বা বাদ পড়লে শরীরের অ্যান্টিবডির মাত্রা কম তৈরি হতে পারে, এ কারণে
ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার সঠিক মাথায় পৌঁছায় না। তবে মনে রাখতে হবে, এ
কার্যকারিতার সময়সীমা ব্যক্তিবেদে কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ
মধু ও কালোজিরা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
রেবিস ভ্যাকসিন এর বুস্টার ডোজ কেন দরকার
রেবিস ভ্যাকসিন নেওয়ার পর মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠে
এবং নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে এনটিবডি তৈরি করে। তবে সময়ের সাথে সাথে এই
অ্যান্টিবডির মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। যখন শরীরে এন্টিবডির পরিমাণ
কমে যায়, তখন শরীরের সুরক্ষা আগের মতো শক্তিশালী থাকে না। এ অবস্থায় শরীরকে
আবার সক্রিয় করার জন্যই বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়।
বুস্টার ডোজের আরেকটি বড় সুবিধা হল, এর পুরো ভ্যাকসিন কোর্স নতুন করে নেওয়ার
প্রয়োজন হয় না। সাধারণত আগেই থেকেই নেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাত্র দুইটি
বুস্টার ডোজই যথেষ্ট হয়। এতে সময়, খরচ, শারীরিক ঝামেলা কমে যায়। আবার একই
সঙ্গে পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, তাই বুস্টার ডোজকে সহজ কিন্তু অত্যন্ত
কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বলা হয়। রেবিস ভ্যাকসিনের বুস্টার শুধু ডোজ একটি
অতিরিক্ত টিকা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ।
শিশুদের ক্ষেত্রে রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা
শিশুদের ক্ষেত্রে রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ
শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় রেবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
থাকে। শিশুরা সাধারণত কুকুর বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর সাথে খেলতে গিয়ে কামড়
বা আঁচড়ের শিকার হয় এবং অনেক সময় ভয় বা অজান্তের বিষয়টি বড়দের জানায়
না। এই কারণে শিশুদের চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যায় এবং তা
মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে এবং কতটা কার্যকর হয়ে থাকে এটা
অবশ্যই জানতে হবে।
চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায়
ভ্যাকসিনের প্রতি তাদের শরীর ভালো কাজ করে। নির্ধারিত সময়ে ভ্যাকসিন নেয়া হলে
শিশুদের ক্ষেত্রে এই টিকা প্রায় সমানভাবে কার্যকর হয়ে থাকে এবং দীর্ঘদিন
পর্যন্ত শিশুর শরীর সুরক্ষা প্রদান করে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আরেকটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিশুর শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সঠিকভাবে কাজ করার
জন্য খেয়াল রাখতে হবে যেন ভ্যাকসিনের একটি ডোজও বাদ না পড়ে।
বয়স ও শারীরিক অবস্থা
রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মানুষের বয়সের উপর উল্লেখযোগ্য ভাবে নির্ভর করে।
সাধারণত শিশু ও তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তাদের ভ্যাকসিনের প্রতি
দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্যদিকে বয়স্ক ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে
ইমিউন সিস্টেম কাজ করে যার ফলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অ্যান্টিবডি করে তৈরি করতে
কিছুটা সময় লাগে। রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বড় ধরনের
প্রভাব ফেলে। যারা দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ. লিভার রোগ বা
ভুগছেন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক কম
থাকে।
এছাড়া যারা ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেমোথেরাপি করছেন,এইডস এর মত রোগে
আক্রান্ত অথবা হৃদরোগে ভুগছেন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের
তুলনায় অনেক কম থাকে। তাই এই ধরনের রোগ থাকলে ভ্যাকসিন শরীরে ঢোকার পর এন্টিবডি
তৈরির গতি অনেক ধীর হতে পারে। এ কারণে ভ্যাকসিনের পূর্ণ সুরক্ষা পেতে অতিরিক্ত
সর্তকতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।রেবিস ভ্যাকসিন নেওয়ার সময় সঠিক
খাবার, পরিমিত বিশ্রাম এবং সঠিকভাবে স্বাস্থ্য রক্ষা করা জরুরী।
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কমে গেলে কি লক্ষণ দেখা যায়
রেবিস ভ্যাকসিনেরকার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে এমন কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা
যায় না, এটাই এই ভ্যাকসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিভ্রান্তকর বিষয়।
কারণ রেপি স্ট ভ্যাকসিন একটি প্রতিরোধক মূলক টিকা, এবং এটি চলমান রোগের উপসর্গ
তৈরি করে। না তাই কার্যকর কমে গেলে মানুষ নিজে থেকে বুঝতে পারে না যে তার শরীরের
সুরক্ষা দুর্বল হয়ে গেছে। অনেকেই ভুল মনে করেন, যদি কোন সমস্যা বা অস্বস্তি না
থাকে তাহলে এখনো রেবিস ভ্যাকসিন শরীরে কাজ করছে। রেবিস ভ্যাকসিন মূলত শরীরে ভেতরে
থাকা এন্টিবডির পরিমাণের উপর নির্ভর করে, বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় না।
তবে র্যাবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় প্রকৃত বিপদ তখনই সামনে
আসে, যখন কেউ আবার কোন সন্দেহজনক প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়। এই
অবস্থায় যদি শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি না থাকে, তাহলে রেবিস ভাইরাস দ্রুত
স্নায়ুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কোন লক্ষণ না থাকলেও আগের ভ্যাকসিন নেওয়া
থাকলেও কামড়ানোর পর অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
জরুরি। কারণ রেবিসের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়া
জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা নিয়ে ভুল ধারণা
রেবিস ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ভুল ধারণা গুলো হলো
রেবিস ভ্যাকসিন একবার নিলে সারা জীবনের জন্য আর কোন চিন্তা থাকেনা। বাস্তবে
এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। রেবিস
ভ্যাকসিন শরীরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা সময়ের সাথে
সাথে কমে যেতে পারে। তাই আগের ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও ভবিষ্যতে চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী নতুন করে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক মানুষ আবার মনে করেন, পোষা কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে রেবিস ভ্যাকসিনের দরকার
নেই। এটি আরেকটি মারাত্মক ভুল ধারণা। পোষা প্রাণীকে যদি নিয়মিত টিকা না দেওয়া
হয় বা বাইরে চলাফেরা করে অথবা অন্য সংক্রমণ প্রাণীর সংস্পর্শে আসে
তাহলে তার মধ্যেও রেবিস ভাইরাস ছড়াতে পারে। রেবিস ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের
মধ্যে তৈরি আরেকটি ভুল ধারণা হলো, রেবিস ভ্যাকসিন নেওয়ার পর যদি
কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না হয় তাহলে বুঝতে হবে ভ্যাকসিন কাজ করছে না।
আসলে বাস্তবে রেবিস ভ্যাকসিন খুবই নিরাপদ, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন বড়
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
রেবিস ভ্যাকসিন না নিলে কি ঝুঁকি থাকে
রেবিস ভ্যাকসিন না নিলে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ংকর ঝুঁকি হলো জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত
হওয়া। যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতক রোগ হিসেবে পরিচিত। রেবিস ভাইরাস
সাধারণত কুকুর, বিড়াল, শিয়াল বা অন্যান্য সংক্রমিত প্রাণীর কামর বা আঁচড়ের
মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। একবার এই ভাইরাস মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের
প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে এটি মস্তিষ্কের দিকে অগ্রসর হয়। এই পর্যায়ে রোগের কোনো
লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই রোগটি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে
পড়ে।
রেবিসের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো যখন রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখন চিকিৎসা প্রায়
অসম্ভব হয়ে যায়। জ্বর, মাথা ব্যথা, অস্বাভাবিক ভয়, পানি দেখলে আতঙ্ক, খিচুনি ও
অচেতনতার মত লক্ষণ শুরু হওয়ার পর রোগী সাধারণত নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে
যায়। রেবিস ভ্যাকসিন না নিলে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তি ঝুঁকিতে থাকে না, তার
পরিবার ও আশেপাশের মানুষও মানসিক ও সামাজিকভাবে বড় বিপদের মধ্যে থাকে। তাই রেবিস
ভ্যাকসিন না নেওয়ার ঝুঁকি শুধু একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নয় এটি জীবন মৃত্যুর
প্রশ্ন। এ কারণে অবশ্যই আমাদের সচেতন ও দ্রুত টিকা গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ
চর্মরোগে নিম পাতার সঠিক ব্যবহার
শেষ কথাঃ রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে
রেবিস ভ্যাকসিন এর কার্যকারিতা কতদিন থাকে এটা আমাদের অনেকেরই জানা আবার অনেকেই
অজানা। রেবিস ভ্যাকসিন সাধারণত ১ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে। তবে এটি
ব্যক্তি, ডোজ ও শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভরশীল। রেবিস ভ্যাকসিন সময় মতো এবং
সম্পূর্ণ কোর্স করলে এই ভ্যাকসিন প্রায় ১০০% কার্যকর ভাবে জীবন রক্ষা করতে পারে।
কোন প্রাণীর কামরকে কখনোই হালকা করে দেখা উচিত নয়। রেবিস ভাইরাস থেকে মুক্তির
জন্য সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসায় একমাত্র নিরাপদ পথ।
অনেক মানুষ এখনো রাবিসের ভয়াবহতা এবং সময় মতো ভ্যাকসিন নেওয়ার গুরুত্ব
সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। আজকে আমি এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায় রেবিস
ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা, প্রভাব এবং ভ্যাকসিন না নিলে কি ধরনের মারাত্মক ঝুঁকি
হতে পারে সবকিছু সুন্দরভাবে আলোচনা করেছি। আশা করি এই লেখাটি পড়ে মানুষ আরো
সচেতন হবে এবং প্রাণীর কামড় আর অবহেলা করবে না। এই লেখাটি পড়ে আপনার উপকার
হলে আপনার মূল্যবান মতামত জানালে আমার লেখা প্রতি আগ্রহ আরো বাড়বে।



রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url