রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া সঠিকভাবে প্রতিটা মুসলমানের জানা উচিত। ইসলামে রোজা একটি ফরজ ইবাদত। রোজার মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। নিয়ত ছাড়া কোন এবাদতে পূর্ণতা পায় না। তাই রোজা শুরুর আগে সঠিক নিয়ত করা প্রত্যেকটা রোজাদারদের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
রোজা পালনের শুরু হয় সেহেরি দিয়ে আর শেষ হয় ইফতারের মাধ্যমে। সেহরি ও ইফতারের সময় নির্দিষ্ট দোয়া আমাদের ইবাদত কে আরো অর্থবহ ও সুন্দর করে তোলে। আপনারা যারা রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে চাচ্ছেন আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য।
সূচিপত্রঃ রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
- রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
- রোজার নিয়ত কি
- রোজার নিয়ত কেন জরুরী
- সেহরির গুরুত্ব ও সেহরির দোয়া
- ইফতারের দোয়া
- শেষ কথাঃ রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া প্রতিটি মুসলমানের জানা উচিত। রমজান
মাসে রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য একটি ফরয ইবাদত। এই মাস মুসলমানদের জন্য একটি
রহমতের মাসও বলা যায়। রমজান মাসের রোজা রাখা শুধু না খেয়ে থাকা নয় বরং নিয়ত,
আত্ম সংযম ও আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মহান ইবাদত।, রোজার
সঠিক নিয়ম পালন করা সেহরির বরকত গ্রহণ করা এবং ইফতারের সময় দোয়া করা এই তিনটি
বিষয়ে রোজাকে আরো সওয়াব পূর্ণ করে তোলে। যেহেতু রমজান মাস একটি ফরজ ইবাদত
যেহেতু প্রত্যেকটা মুসলমানের উচিত রোজার সঠিক ভাবে জেনে রাখা।
আরও পড়ুনঃ
রক্ত বের হলে কি রোজা ভাঙ্গে
ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। রোজার ক্ষেত্রে ও নিয়ত পালন করা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত ঠিক না হলে কোন এবাদত সঠিকভাবে হয় না। নিয়ত
ছাড়া রোজা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। রোজা শুধুমাত্র না খেয়ে থাকা
নয় বরং এটি আল্লাহর আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে আত্ম সংযমের একটি ইবাদত, যে ইবাদত
শুরু হয় নিয়তের মাধ্যমে। ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী নিয়ত মুখে উচ্চারণ
করা ফরজ নয় বরং অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা জরুরী যে আমি আল্লাহর সন্তুষ্ট
অর্জনের জন্য রোজা রাখছি।
রোজার নিয়ত কি
ইসলামের সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত সব ক্ষেত্রেই
নিয়ত ছাড়া ইবাদত পূর্ণতা পায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
স্পষ্টভাবে বলেছেন নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। রোজার নিয়ত সাধারণত
রাতে করায় উত্তম। রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগে করা উচিত। তবে কেউ
যদি রাতে নিয়ত করতে ভুলে যায় তাহলে ফজরের পরে কিন্তু ধীবরের আগে নিয়ত করলেও
রোজা সহিহ হয়।
অনেকের ধারণা নিয়ত অবশ্যই মুখে আরবি ভাষায় উচ্চারণ করতে হবে। আসলে বিষয়টি
তা নয়। নিয়তের আসল স্থান হল হৃদয়। কেউ যদি মনে মনে নেই আমি আর আল্লাহর জন্য
রোজা রাখছি তাতেই নিয়ত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা অবশ্যই আমাদের অন্তরের সকল খবর
জানেন। রোজার নিয়ত একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে রোজার জন্য প্রস্তুত করে।
নিয়ত থাকার কারণে একজন মানুষ গোপন অবস্থাতেও রোজা ভঙ্গ করা থেকে বিরত থাকে তার
নিয়ত আল্লাহর জন্য।
আরও পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম
বাংলা উচ্চারণে রোজার নিয়তঃ
নাওয়ইতু আন আসূমা গাদান মিন শাহরি রমাদানাল মুবারকি ফারদ্বান লাকা ইয়া আললাহু
ফাতাকাব্বাল মিন্নী
অর্থঃ আমি আগামীকাল রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম, হে আল্লাহ
তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করে নাও।
রোজার নিয়ত কেন জরুরী
রোজার নিয়ত জরুরি হওয়ার প্রধান কারণ হল কোন ইবাদতই নিয়ত ছাড়া আল্লাহর
কাছে পূর্ণতা লাভ করে না। ইসলামী শরীয়তে প্রতিটি আমল মূল্যায়ন করা হয়
মানুষের অন্তরের উদ্দেশ্য ও সংকল্পের ভিত্তিতে। আপনি যদি সারাদিন না খেয়ে থাকেন
কিন্তু আপনার মনে রোজার নিয়ত না থাকে তাহলে সেটি আল্লাহর কাছে ইবাদত হিসেবে গণ্য
হবে না বরং তা সাধারণ উপাসনা হিসেবে থেকে যাবে। তাই রোজাকে ইবাদতে রূপ
দেওয়ার জন্য নিয়ত করা জরুরী।
একজন মানুষ যখন মনে মনে স্থির করে নেয় যে সে আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য রোজা
রাখবে তাহলে তার প্রতিটি কষ্ট, ক্ষুধা, তৃষ্ণা আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের
জন্য হয়ে থাকে। রোজার নিয়ত আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।
নিয়তের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজেকে সারাদিন সংযম, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের
জন্য প্রস্তুত করে নেয়। রোজা রাখা শুধুমাত্র খাবার ও পানাহার
থেকে বিরত থাকায় নয় বরং খারাপ কথা, মন্দ কাজ ও পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখাও
রোজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা নিয়তের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়।
সেহরির গুরুত্ব ও সেহরির দোয়া
সেহেরী রোজার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বরকতময় সুন্নত আমল। রোজা পালনের জন্য
সেহরি খাওয়া ফরজ না হলেও এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নত এবং এতে
রয়েছে বিশেষ বরকত ও কল্যাণ। সেহেরী রোজাদারকে শারীরিকভাবে যেমন শক্তি
যোগায়, তেমনি মানসিকভাবেও রোজা রাখার জন্য জন্য প্রস্তুত করে। এজন্য
ইসলামের সেহেরির গুরুত্ব অনেক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন তোমরা
সেহরি খাও, কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে। সেহরির সময় আল্লাহ তায়ালার রহমত অবতীর্ণ
হয় এবং এই সময়ের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা ও বেশি থাকে।
সেহেরী রোজাদারকে সারা দিনের রোজা পালনের সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার
ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে কিন্তু সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে শরীর প্রয়োজনে
শক্তি পায় এবং রোজা রাখা সহজ হয়। বিশেষ করে গরমের সময় বা দীর্ঘ রোজার
দিনে সেহরির গুরুত্ব আরো বেশি। সেহরি বাদ দিলে কষ্ট বেড়ে যায় এবং রোজার মূল
উদ্দেশ্য মনোযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে একজন মুসলমান
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত অনুসরণ করার সওয়াব লাভ করে যা
রোজার সওয়াব কে আরো বৃদ্ধি করে।
আরও পড়ুনঃ বাসক পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
সেহরির দোয়াঃ
সেহরির জন্য কোরআন বা হাদিসের নির্দিষ্ট কোন বাধ্যতামূলক দোয়া নেই। তবে সেহরি
খাওয়ার সময় বা শেষে রোজার নিয়ত করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা অত্যন্ত
ফজিলতপূর্ণ। একজন রোজাদার এই সময়ে নিজের জন্য পরিবারের জন্য এবং সমগ্র উম্মার
জন্য দোয়া করতে পারে।
আমরা সাধারণভাবে এভাবে নিয়ত করতে পারি। হে আল্লাহ আমি তোমার সন্তুষ্টির
জন্য সেহরি গ্রহণ করছি। তুমি আমাকে আজকের রোজা সহজ করে দাও, আমার গুনাহ মাফ কর
এবং আমার ইবাদত কবুল করো। আমিন।
ইফতারের দোয়া
ইফতার রোজাদারদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি মুহূর্ত। ইফতারের সময় দোয়া কবুল
হয় বলে অনেক হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। তাই ইফতারের আগে বা ইফতার করার সময়
দোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্কিকা আফতারতু
বাংলা অর্থঃ হে আল্লাহ. আমি তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক
দিয়েই ইফতার করলাম।
শেষ কথাঃ রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া
রোজা রাখার নিয়ত - সেহরি ও ইফতারের দোয়া আমাদের প্রতিটি মুসলমানদের জানা উচিত।
নিয়ত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা রোজা রাখছি শুধু সামাজিক রীতি বা অভ্যাসের
কারণে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্ট অর্জনের উদ্দেশ্যে। সেহেরির বরকত
রোজার কষ্ট সহজ করে এবং ইফতারের মুহূর্ত আমাদের হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা
ও তৃপ্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই সময়কার দোয়া আমাদের গুনাহ মাফ, জীবনের
সমস্যা সমাধান এবং আখিরাতে সফলতা তার জন্য এক অনন্য সুযোগ হয়ে ওঠে।
আমার মতে, আমাদের প্রতিটি মুসলমানদের রোজা রাখার পূর্বে অবশ্যই রোজার সঠিক নিয়ম
ও ইফতারের দোয়া জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজার প্রতিটি মুহূর্তকে
ইবাদতে পরিণত করতে হলে, নিয়তকে কাটিয়ে রাখা, সুন্নত অনুযায়ী সেহেরী আদায় করা
এবং ইফতারের সময় দোয়ার মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরী। আল্লাহ তা'আলা আমাদের
সবাইকে রোজার প্রকৃত শিক্ষা বুঝে তা আমল করার তৌফিক দান করুন। আমার লেখা পড়ে যদি
আপনার উপকার বলে মনে হয় তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমার লেখার আগ্রহকে আরো
বাড়িয়ে দিবে।



রাফি প্লাসের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। আপনাদের প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url